প্রাথমিকে চাকরি গিয়েছে ৩৬ হাজারের, সেই তালিকায় নাম উঠে এল রাজ্যের মন্ত্রীকন্যারও, জোর শোরগোল মালবাজারে

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিকে চাকরি গিয়েছে ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের। তা নিয়ে চর্চা এখনও চলছে। আর এরই মধ্যে সেই তালিকায় নাম উঠল রাজ্যের এক মন্ত্রীর মেয়েরও যা নিয়ে বেশ শোরগোল তৈরি হয়েছে। তবে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হন নি মন্ত্রী।

গত শুক্রবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিকে ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে মালবাজারের বিধায়ক বুলু চিক বড়াইকের মেয়েরও। বুলুচিক বড়াইক শুধুমাত্র বিধায়কই নন, তিনি রাজ্যের অনগ্রসর কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরে স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীও বটে।

তাঁর মেয়ে সুষমা চিক বড়াইকের চাকরিহারাদের তালিকায় থাকায়, তা নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, মালবাজার ব্লকের রাঙ্গামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন রাঙ্গামাটি চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষিকা পদে চাকরি করতেন ছিলেন মন্ত্রীকন্যা।

চাকরি বাতিল প্রসঙ্গে কোনও প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে চান নি সুষমা। তবে এই মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে, তাতে রাজ্যে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতে ইন্টারভিউ পর্যন্ত প্রসঙ্গ উঠে আসে। এই বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বিচার ব্যবস্থার ওপর সম্পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তেমন কোনও মন্তব্য আমি করব না”।

বলে রাখি, ২০১৪ সালে প্রাথমিকে নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষা হয়। সেই প্রার্থীদের ইন্টারভিউ ও অ্যাপ্টিচিউড টেস্ট হয় ২০১৬ সালে। সেই প্যানেলে সাড়ে ৪২ হাজার প্রার্থীর নাম প্রকাশিত হয়। এদের মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার ছিলেন ডিএলএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বাকি ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত। সেই সময় পর্ষদের তরফে বলা হয়েছিল যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আগে নিয়োগ করা হবে। এরপর যদি শূন্যপদ থাকে, তাহলে তাতে অপ্রশিক্ষিতদের নিয়োগ হবে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যে সাড়ে ৪২ হাজারের চাকরি হয়েছিল, তাতে মাত্র ৬ হাজার ছাড়া সিংহভাগই অর্থাৎ ৩৬ হাজারই অপ্রশিক্ষিত। অভিযোগ ওঠে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বাদ দিয়ে অপ্রশিক্ষিতদের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাতেই ওই ৩৬ হাজারের চাকরি বাতিল করে আদালত।

আরও অন্যান্য খবর