দলবদলের জোয়ারে ছেলের হত্যাকারী আজ বিজেপি শিবিরে! শুধু দলকে ভালোবেসে পদ্ম চিহ্নে ভোট দিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা

২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মু’র। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে মূল অভিযুক্ত ছিলেন রানিবাঁধের সেই সময়কার তৃণমূল নেতা বিদ্যুৎ দাস। ‌ তখন‌ও বাংলায় সেইভাবে শক্তি পায়নি বিজেপি। কিন্তু তিন বছরে বাংলার রাজনীতির ছবিটাই বদলে গেছে। দ্রুতগতিতে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রধান বিরোধীদলের তকমা ছিনিয়ে নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

চলতি বিধানসভা নির্বাচনে, কাতারে কাতারে মানুষ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ঢুকেছে। সেইসঙ্গেই ঢুকেছে অজিত মুর্মু’র খুনী বিদ্যুৎ দাস।

আরও পড়ুন-WB Election 2021: প্রচারে বেরিয়ে বিপত্তি! লকেটের চোখ রং ছোঁড়ার অভিযোগ, সন্দেহের তীর তৃণমূলের দিকে

কাঠের দরজায় বড় বড় অক্ষরে সবুজ কালিতে লেখা মুরমু বাখোল। সেখানেই অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া বারান্দায় বসে রামেশ্বর মুর্মু। বৃদ্ধার নাম শ্রীমতী মুর্মু। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল রানিবাঁধ ব্লকের পুনশ্যা গ্রামের বাসিন্দা। ৭৭ বছরের বৃদ্ধ ক্ষীণ গলায় বললেন, “ভোট এবার আমরা দিতে যাব না বলেই ঠিক করেছিলাম। ছেলের যারা খুনি তারা এখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। কিন্তু আমরা তো বিজেপিকে ভালবাসি। তাই এবারও সকাল সকাল গিয়ে ভোটটা দিয়ে এসেছি।” পাশে বসা বৃদ্ধের স্ত্রীও বললেন, “ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। তাই আমরা সবাই ভোট ঠিকই দিয়েছি।”

আরও পড়ুন- ভোটের কোপ দিঘাতে, প্রথম দু’দফার ভোটের কারণে বন্ধ দিঘা, পর্যটকবিহীন সমুদ্র সৈকত 

উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে রামেশ্বরবাবু ও শ্রীমতীদেবীর মেজছেলে বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মুর। প্রায় তিন বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের আগে প্রাণ গিয়েছে এই মুর্মু পরিবারের তরতাজা ছেলের। এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত বিদ্যুৎ দাসকে বিজেপিতে নেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ছড়িয়েছিল স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে কলকাতায় বিজেপির রাজ্য দপ্তরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন নিহতের পরিবার। ক্ষোভে অভিমানে এবার ভোট দিতে না যাওয়ার পণ করেছিলেন রানিবাঁধের নিহত বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মুর পরিবার। তবে সেই পণ ভঙ্গ করে অভিমান ভুলে সাতসকালেই বুথে গিয়ে ভোট দিলেন নিহত বিজেপি কর্মীর বৃদ্ধ বাবা, বৃদ্ধা মা-সহ তার পরিবারের লোকজন।

ভোটের কথা জানতে চাইতেই এক লহমায় বৃদ্ধ রামেশ্বরবাবু বললেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমার ছেলে অজিতকে খুন করা হয়েছে। যারা ওই ঘটনায় অভিযুক্ত তারাই এখন বিজেপি করছে। তাই আমরা ঠিক করেছিলাম এবার ভোট দিতেই যাব না। তবে বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আমাদের বাড়ি এসেছিলেন। ছেলের খুনিদের বিচার হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। পুত্রশোক কি ভোলা যায়? তবে ভোটটা দিয়ে এসেছি। আমরা সবাই ভোট দিয়েছি।”

আরও অন্যান্য খবর