ছাড়লেন দিদির হাত! ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের টানেই কি বিজেপির পথে দেব? দিল্লির বৈঠক ঘিরে জোর রাজনৈতিক জল্পনা! দলবদল নিয়ে কী সাফাই দিলেন মেগাস্টার?

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে কয়েকজন সাংসদের পক্ষ থেকে চিঠি জমা পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন ঘাটালের সাংসদ এবং জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব। সূত্রের খবর, তিনি এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কার্যত এর অর্থ বিজেপির সঙ্গে পথচলা শুরু করা। এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লি ও বাংলার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

দেবের এই অবস্থান বদলের কারণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃণমূলের অন্যতম আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কি ধীরে ধীরে বেড়েছিল, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভোট পরবর্তী সময়ে একাধিকবার বিজেপির অন্দরমহলে দেবের নাম উঠে এসেছে বলেও সূত্রের দাবি। সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে প্রায় ১২ জন তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নীল শার্ট পরে উপস্থিত ছিলেন দেবও। তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খবর অনুযায়ী, দিল্লির ওই বৈঠকের আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেবের আলোচনা হয়েছিল। সেই কথাবার্তার পরই তিনি বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আরও জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র দল পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং ঘাটালের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টাও হতে পারে। বিশেষ করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই প্রকল্পই দেবের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হতে পারে।

লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-এর আগে দেব স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি আর প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। তখন তিনি বলেছিলেন, ঘাটালের মানুষকে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের আমলে সেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি বলে তাঁর হতাশা তৈরি হয়েছিল। ঘাটালের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সম্মত হন। সেই সিদ্ধান্তের পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘আমি ভিক্টিম তাই কার্ড খেলেছি…’ ছেলের অন্নপ্রাশনে ‘দাঁতে দাঁত চেপে’ যে কারণে কার্ড খেলেছেন, এবার নিজেই ফাঁস করলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়!

২০২৩ সালের কালীপুজোর পরদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবকে নিজের বাড়িতে ডেকে দধিকর্মা খাইয়েছিলেন। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। ওই বৈঠকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য আড়াইশ কোটি টাকা বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির পরই দেব আবার ভোটে লড়তে রাজি হন। তবে এক বছর কেটে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি উঠেছে। ফলে ঘাটালের মানুষকে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারার আক্ষেপ থেকেই কি এবার দিল্লির পথে হাঁটলেন দেব, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর