‘স্বেচ্ছায় গদিতে বসেছেন, না পারলে ছেড়ে দিন’, কুম্ভকর্ণের ঘুমের পর হাত ধোয়ার ক্লাস, তীব্র মন্তব্য রাহুলের

সম্প্রতি মমতার সরকারকে স্বাস্থ্য থেকে পরিবহন সর্বক্ষেত্রে সমালোচনা করে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন এরা’ কুম্ভকর্ণের ঘুমে’ রয়েছে। তিনি প্রায় প্রতিদিনই করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকাররের ব্যর্থতা নিয়ে কটাক্ষ করেন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংবাদিক বৈঠকের পর আবারও তাঁর বিরুদ্ধে তোপ ডাগিয়ে তিনি বলেন, ‘দিদি এখন হাত ধোয়ার ক্লাস নিচ্ছেন!

তাঁর মন্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রী করোনার ব্যর্থতা ঢাকতে নবান্নে বসে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে মাছ কাটা, তরকারি ধোওয়া শেখাচ্ছেন। মনে হচ্ছে উনি যেন হাত ধোয়ার ক্লাসই নিচ্ছেন। আপনি তো স্বেচ্ছাতেই গদিতে বসেছেন। তাহলে বলছেন কেন, একে করোনা তারওপর এই সাইক্লোন কত করবেন! করতে না পারলে ছেড়ে দিন অথবা সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করুন। করোনার মধ্যেই বাঁচার অভ্যেস করুন।’

পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যু নিয়েও মমতাকে কটাক্ষ রাহুলের। তাঁর দাবি,’ মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিযায়ীদের ফিরিয়ে আনতে গড়িমসি করছেন। এমনকি রাজ্য সরকার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা নিয়েও তথ্য গোপন করছেন। আর শুধু কি শ্রমিক সাথে রয়েছেন পর্যটক, রোগি ও অফিসের কাজে যাওয়া মানুষরা। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা প্রায় ১৮ লাখ তো হবে। প্রথম দুটি ট্রেনে তো পরিযায়ীদের নামে তীর্থযাত্রীরা নিয়ে এল। ১ মাস ধরে ২৩৫টা ট্রেনে কতজন ফিরবে? আসলে উনি তো জানেনই আগামী মাসে সব স্বাভাবিক হবে। তাই এত দেরি করছেন। যাতে রাজ্যকে রেল ভাড়া না দিতে হয়। পরিযায়ীরা যে টাকা পাঠায় তাঁরা চলে আসলে রাজ্যের ভাড়ারে টান পড়বে। আবার এখানে ফিরে এলে কাজ চাইবে।এমনিতেই বেকারের ক্ষেত্রে বাংলা একনম্বর।’

করোনা নিয়ে রাজ্য সরকার যে নতুন নির্দেশে জারি করেছে তাতে সংক্রমনের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফলবাজার, হর্কাস মার্কেট খোলার ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড়ের ফরমূলা দিয়ে কি সংক্রমণ আটকানো যাবে? আমাদের কাছে সংক্রমণ ঠেকানোর উপায় আছে উনি চাইলে আমরা তা জানাতেই পারি।’

সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ‘বাংলায় কার্ফু নয়’। এই কথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাহুলবাবু বলেন, ‘রেড জোনের তিনভাগ এসব তো উনি করেননি। কেন্দ্র সরকার ঠিক করেছে। উনি কেন্দ্রের প্রকল্প নিজের নামে চালাচ্ছেন। কার্ফু শব্দটা নিয়ে ওনার সমস্যা কিন্তু বাকি নিয়ম একই থাকবে।’

এদিন রাহুলবাবু মুখ্যমন্ত্রীকে করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে পরামর্শ দিয়ে বলেন,

‘করোনা মোকাবিলায় আপনার রাজ্যের একনম্বর হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজে একবার যান গিয়ে দেখুন চিকিৎসার নামে কিরকম হাহাকার চলছে। ওখানে যাঁরা ভর্তি আছেন তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দেখুন একবার রোগির পরিবার জানতেই পারে না তাঁর রোগি বেঁচে আছে না মরে গেছে। খাবার নেই, মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। কোনো পরিবর্তন নেই। রোজই একই দৃশ্য। এতদিন তো রাস্তায় অনেক কিছু করলেন কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে কি করলেন। এরপরেও আমরা কিছু বলব না? চুপ করে থাকব?’

RELATED Articles

Leave a Comment