কলকাতায় থাকলে প্রায় প্রতিদিনই নিউ টাউনে বা ইকো পার্কে (Eco Park) প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে রাজ্য সরকারের (State Government) নানান ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। রাজ্য ও রাজ্য সরকারকে নানান বিষয়ে বিঁধতে দেখা যায় তাঁকে। এবার আলিপুরদুয়ারে চা বলয়ে পা দিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ মেজাজেই ধরা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। চা শ্রমিকদের (tea workers) পাশে দাঁড়িয়ে একহাত নিলেন রাজ্য সরকারকে।
গতকাল, মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ায় পৌঁছেছেন দিলীপ ঘোষ। আজ, বুধবার সকালে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের বীরপাড়া চৌপথি এলাকায় চা চক্রে যোগ দেন তিনি। চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার চা শ্রমিকদের সঙ্গে রীতিমতো খেলা করছে। চা শ্রমিকরা এখানকার ভূমিপুত্র। তাঁদের পূর্বপুরুষরা সেই ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে রয়েছেন, কাজ করছেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাঁরা এখানে এসেছিলেন। চা বাগানের শ্রমিকদের যে জমি দেওয়া হচ্ছে খুব কম জমি দেওয়া হচ্ছে। মাত্র আধ ডেসিম্যাল জায়গায় কি হয়! কমপক্ষে এতটা জমি দেওয়া হোক যাতে শ্রমিকরা ঠিকমতো বসবাস করতে পারেন”।
এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “রাজ্য সরকার প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের এই রাজ্যের ভূমিপুত্র বানিয়ে দিচ্ছে। আর এদিকে প্রায় ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজ্যে থাকা এই চা শ্রমিকরা থাকার জমি পাচ্ছেন না। এঁরা কিন্তু বিদেশ থেকে আসেননি, দেশেরই বিভিন্ন রাজ্য থেকে এখানে এসেছেন। নিয়ম অনুযায়ী ৫০ বছরের বেশি কেউ এক জায়গায় বসবাস করলে সেই জায়গার ওপর একটা অধিকার জন্মে যায়”।
এদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পথচলতি মানুষদের সঙ্গে নানান কথা বলেন মেদিনীপুরের সাংসদ। এদিন চা চক্র থেকে ফের একবার বকেয়া ডিএ নিয়ে কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “ডিএ না দিলে রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা আন্দোলন করবেই এবং এটা ধীরে ধীরে উগ্ৰ আন্দোলনে রূপ নেবে। গোটা দেশের সব রাজ্যে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হচ্ছে। আর আমাদের রাজ্যেই ডিএ দেওয়ার নামগন্ধ নেই। শুধু ভাঁওতাবাজি ও প্রতিশ্রুতি চলছে। এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না। মমতা একটা সময় নিজে দেখিয়েছেন আন্দোলন কিভাবে করতে হয়। এবার রাজ্যের কর্মচারীরা তা দেখাবেন মমতাকেই”।
বিজেপি সাংসদ-মন্ত্রীদের বাড়ি ঘেরাও প্রসঙ্গ তুলে এদিন বিজেপি নেতা বলেন, “এটা করে তৃনমূল ভালো কাজ করছে না। ঘেরাও আন্দোলন আমাদের নেতা কর্মীরাও করতে পারেন। এবার আমাদের কর্মীরা যদি অভিষেক বা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করেন, সেটা কি খুব ভালো দেখাবে! এভাবে একটা রাজ্য চলতে পারে না। তৃনমূল এভাবে নিজের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে। দিদির দূত হিসেবে গিয়ে ওদের নেতারাই জনতার কাছে ঝাড় ও মার খাচ্ছেন”।





