আজ, মঙ্গলবার কাটোয়ায় ‘চায় পে চর্চা’-এ যোগ দিয়ে রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ নিয়ের ফের একবার তীর বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দুয়ারে সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর মতে, “যাওয়ার আগে করে খাওয়ার’ জন্যই এই এই বরাদ্দ বৃদ্ধি, এও বলেন তিনি। এসবই দলে কর্মীদের ধরে রাখার প্রচেষ্টা বলে মনে করেন তিনি। কর্মীদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের দলে ধরে রাখতে চাইছে তৃণমূল, একথাই নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেন তিনি।
এমনিতেও, ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই দ্বিমত পোষণ করে এসেছেন দিলীপ ঘোষ। বারবার তিনি অভিযোগ তুলেছেন, এই প্রকল্পের দ্বারা সরকারের টাকা নষ্ট করা হচ্ছে। এই ‘দুয়ারে সরকার’-কে ‘যমের দুয়ারে সরকার’ বলেও ব্যঙ্গ করেন তিনি।
এদিন কাটোয়ায় ‘চায় পে চর্চা’-তে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “শুনলাম সরকারের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। সরকারী টাকা নয় ছয় করা হচ্ছে, মোচ্ছব করা হচ্ছে। কী লাভ হচ্ছে তাতে। কিছু মানুষ করে খাচ্ছে। পার্টির কর্মীদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা পালিয়ে না যায়। যত পার্টি ছাড়ার হিড়িক বাড়ছে, তত টাকা খরচ হচ্ছে, পার্টিসার্টি হচ্ছে। আর কিছুদিনই আছ, করে খেয়ে নাও এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে”।
এদিন প্রশান্ত কিশোরকেও তোপ দাগেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বলেন, বিজেপিকে নিয়ে ওঁকে ভাবতে হবে না। তৃণমূল আগামী নির্বাচনে দুই সংখ্যা পার করে কী না সন্দেহ। তাঁর কথায়, প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের থেকে টাকা নিয়েছে, তৃণমূল না থাকলে, ওঁকেও মুখ এখান থেকে বিদায় নিতে হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন যে, এ বছর বিভিন্ন দফতরে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো হবে। যে সমস্ত কর্মীরা দুয়ারে সরকার প্রকল্পে দিনরাত কাজ করে চলেছেন, তাদের জন্যও দু’মাসে ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। অন্যদিকে, গতকালই তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর টুইট বার্তা দিয়ে বলেন যে, বিজেপি যদি আগামী নির্বাচনে দুই সংখ্যা পার করতে পারে, তাহলে তিনি নিজের কাজ ছেড়ে দেবেন।





