সর্ষের মধ্যেই ভূত! অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে তোলাবাজি ফিরহাদ হাকিমের ‘ওএসডি’র, থানায় দায়ের এফআইআর

তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ খুব একটা কম নয়। মাঝেমধ্যেই এমন অভিযোগ ওঠে। এবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ‘অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি’  অর্থাৎ ‘ওএসডি’-ফ বিরুদ্ধেই উঠল তোলাবাজির অভিযোগ। নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে এমন প্রতারণা করতেন ওই ব্যক্তি এমনটাই অভিযোগ।   

ফিরহাদ হাকিমের এই ওএসডির বিরুদ্ধে শেক্সপীয়র থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রীটের পফিসের এক অফিসার। তাঁর অভিযোগ, সরকারি অফিসার থেকে ব্যবসায়ী এমন নানান লোকের থেকে মোটা টাকা আদায় করেছেন ওই ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিতেন তিনি, এমনটাই জানা গিয়েছে।

নানান বিষয়ে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতেন কালীচরণ। আর তাঁকে প্রভাবশালী বলে মনে করে অনেকেই নানান অনুরোধ করতেন তাঁকে। বিনিময়ে তাদের থেকে টাকা নিতেন কালীচরণ। লিখিত অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, কালীচরণের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই কালীচরণের কোনও যোগ নেই বলেই জানান অভিষেকের দফতরের ওই কর্মী। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমি আগে কখনও এই ধরনের অভিযোগ শুনিনি। আমার ওএসডি-র বিরুদ্ধে যখন অভিযোগ, তা তো আমাকেই বলা যেতে পারত। থানায় অভিযোগের কী দরকার ছিল? আমি জানলে তো আমি নিজেই বিভাগীয় তদন্ত করতাম। একজন মানুষের নামে যদি এমনিই কোনও অভিযোগ আসে, যার কোনও ভিত্তি নেই, তাহলে আমি কী করে সরাব”।

এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূলের অন্দরেই কোনও সমস্যা রয়েছে বলে দাবী অনেকের। অভিষেক ও ফিরহাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এক হলেও এর আগে তাদের নানান বিষয়ে মতপার্থক্য হতে দেখা গিয়েছে। আর এবার এমন এক ঘটনা ঘটায়, এর মধ্যে সূক্ষ্ম কোনও রাজনীতি রয়েছে কী না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ সন্দীপের সঙ্গে পরামর্শ করে আর জি করের জন্য আসা জিনিসপত্র নিজের নার্সিং হোমে নিতেন সুদীপ্ত রায়, অভিযোগ উঠতেই অস্বীকার তৃণমূল বিধায়কের

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কালি টাকা তোলে। কালিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তোপসিয়ার যে তৃণমূল ভবন, যেটা ভেঙে নতুন করে তৈরি হচ্ছে, সেখানে ২০০ কোটি টাকার বিল্ডিং হচ্ছে তৃণমূলের।  যিনি করছেন, কালি টাকা তুলে সেখানে পেমেন্ট করে। কালির সাতটা ফ্ল্যাট রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের থেকে বেশি। গড়িয়া-নিউটাউনে ফ্ল্যাট রয়েছে”।

RELATED Articles