‘দ্রুত ময়নাতদন্ত না হলে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে…’, হুমকি দিয়েছিলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর, তিলোত্তমা কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবী আর জি করের চিকিৎসকের

আর জি কর কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্যের পরিস্থিতি। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এই ঘটনায় তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই উঠেছিল প্রশ্ন। কেন সন্ধ্যে হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ময়নাতদন্ত করা হল, কেন মা-বাবা দাবী করা সত্ত্বেও কেন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হল না, তা নিয়ে রয়েছে অনেক ধোঁয়াশা। এরই মধ্যে এবার ময়নাতদন্ত নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবী করলেন আর জি কর হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের চিকিৎসক-অধ্যাপক অপূর্ব বিশ্বাস।

গতকাল, রবিবার আর জি কর কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে তিন চিকিৎসককে তলব করেছিল সিবিআই। এই তিনজনের মধ্যে একজন এই ফরেনসিক মেডিসিনের অধ্যাপক-চিকিৎসক অপূর্ব বিশ্বাস। এদিন সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এক বিস্ফোরক দাবী করলেন তিনি।

কী বলেছেন ওই চিকিৎসক?

এদিন অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, “নাম বলতে পারব না। ওই দিন মেয়ের কাকা পরিচয়ের একজন, নট ব্লাড রিলেটেড, বলেছিলেন ওই দিনই তাড়াতাড়ি যেন ময়নাতদন্ত করা হয়। না হলে রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেওয়া হবে”।

চিকিৎসকের কথায়, যিনি এই হুমকি দিয়েছিলেন তিনি নাকি একজন প্রাক্তন কাউন্সিলর। অপূর্ব বিশ্বাসের কথায়, “তাঁর নাম বলতে পারব না। কিন্তু নির্যাতিতার বাড়ির ওদিকেরই এক্স কাউন্সিলর তিনি”।

অপূর্ব বিশ্বাসের এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে কে এই প্রাক্তন কাউন্সিলর? কেন তিনি দ্রুত ময়নাতদন্ত করার জন্য হুমকি দিয়েছিলেন? তাঁর কথা চিকিৎসকরা শুনলেনই বা কেন? কেন সেই সময় ওই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হল না পুলিশে? উঠছে এমন নানান প্রশ্ন।

বলে রাখি, তিলোত্তমার ময়নাতদন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। বারবার দাবী করা হয়েছে যে তাড়াহুড়ো করে ময়নাতদন্ত হয়েছে। রাজনীতির চাপ নিয়েও উঠেছে অভিযোগ। এমন আবহে এবার  ফরেনসিক অধ্যাপক-চিকিৎসকের এহেন দাবীর জেরে প্রশ্নের সংখ্যা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের আর্জিতেই সাড়া শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির, সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আর জি কর মামলার শুনানি 

প্রসঙ্গত, গতকাল অপূর্ব বিশ্বাসের এই দাবীর পর আজ, সোমবার আচমকাই সিজিও কমপ্লেক্সে দেখা গেল পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। তাঁর কথায়, তিনি নথিপত্র জমা দিতে গিয়েছেন। অপূর্ব বিশ্বাসের দাবীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কের কোনও মিল রয়েছে কী না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন!

RELATED Articles