চূড়ান্ত দুর্নীতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়! স্বজনপোষণের মাত্রা ছাড়াল মমতার রাজ্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি

এমনিতে তিনি যে কোনও কারণের প্রতিবাদই সোশ্যাল মিডিয়াতে করে থাকেন। রাজ্য সরকারের ভুলগুলি চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর মতো ক্ষমতা রাখেন তিনি। মমতার রাজ্যের নানান দুর্নীতি নিয়ে এর আগেও সরব হয়েছেন তরুণজ্যোতি। এবারেও এর অন্যথা হল না। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যে কতটা নীচে এসে ঠেকেছে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ আইনজীবী তথা বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি তরুণজ্যোতি তিওয়ারির ফেসবুক পোস্ট।

তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সম্প্রতি একটি পোস্ট করেন যাতে তিনি ভালোভাবে উল্লেখ করেন রাজ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থাতেও কীভাবে স্বজনপোষণ হচ্ছে। তাঁর করা পোস্ট অনুযায়ী, বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজিতে অমৃতেশ মাঝি নামের একজন চিকিৎসক নিউরো মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল টিউটর হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। সমস্যাটা সেখানে নয়। সমস্যাটা হচ্ছে, নিউরো মেডিসিনের মতো একটি সুপার স্পেশালিটি বিষয়ের ক্লিনিক্যাল টিউটর হতে গেলে অন্ততপক্ষে সেই চিকিৎসককে মেডিসিনের এমডি হতেই হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে ডঃ অমৃতেশ মাঝির বয়স মাত্র ২৫ বছর। এই বয়সে অন্তত মেডিসিনের এমডি হওয়া সম্ভব নয়। তাই এই ঘটনা থেকে একেবারেই স্পষ্ট যে এক্ষেত্রে স্বজনপোষণ করা হয়েছে।
আবার অন্য একটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, ডঃ অর্পিতা বাইন নামের একজন চিকিৎসক রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর দ্বারা চাকরির জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের একসঙ্গে মোট ১৩টি বিভাগে নির্বাচিত হয়েছেন। কোনও একজন চিকিৎসক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনও একটি বা দুটি বিভাগে স্পেশালিষ্ট হতে পারেন, কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ডঃ অর্পিতা বাইন কমিউনিটি মেডিসিন, ফিজিকাল মেডিসিন থেকে শুরু করে নিউরোলজি, হেপাটোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, নেফ্রোলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, হেমাটোলজি ও আরও নানান বিষয়ে দক্ষ।

মহারানী তোমায় সেলাম
Health Recruitment Board এর দুর্নীতি
*************************************
নিউরো মেডিসিন, একটি…

Posted by Tarunjyoti Tewari on Tuesday, 16 February 2021 

স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হচ্ছে, এই অনুমান আগেই করা হয়েছিল বলে দাবী করেন তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, এবার হাতানাতেই এর প্রমাণ মিলল। এবার প্রশ্ন উঠছে যে, এই ঘটনায় রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেবে! যে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীই হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, সেই রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই ধরণের দুর্নীতি একেবারেই কাম্য নয়।

তরুণজ্যোতি তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদৌ কী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি এই ঘটনাও রাজ্যের ঘটে যাওয়া আরও অনেক দুর্নীতির তলায় চাপা পড়ে যাবে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী উভয়ই, তাই এক্ষেত্রে কে কার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন, এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা।

RELATED Articles