মদ্যপ যুবকদের তাণ্ডব! গাড়ি ধাওয়া, কটূক্তি, নোংরা অঙ্গভঙ্গি…! শেষমেশ প্রাণ হারালেন তরুণী!

সমাজে নিরাপত্তার অভাব দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নারীদের প্রতি অপরাধের ঘটনা বেড়েই চলেছে, যা উদ্বেগজনক। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উঠে আসে, যা আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মদ্যপান, অপসংস্কৃতি এবং অপরাধপ্রবণ মানসিকতা একত্রিত হয়ে নানা দুর্ঘটনার জন্ম দেয়। এমন এক ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, কীভাবে একটি নির্দোষ যাত্রা মর্মান্তিক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

রাতের রাস্তায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। নির্জন পথে মদ্যপ যুবকদের দৌরাত্ম্য এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বারবার নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র তার বিপরীত। যখন একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবকের শিকার হতে হয় নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে, তখন সমাজের চিত্র আরও করুণ হয়ে ওঠে। এমনই এক ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরুণী, যার জীবন এখনও সঠিকভাবে শুরুই হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে রবিবার গভীর রাতে। হুগলির এক তরুণী তাঁর চার সঙ্গীর সঙ্গে ছোট গাড়িতে গয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বুদবুদে একটি পেট্রোল পাম্পে গাড়ি থামানো মাত্রই একদল মদ্যপ যুবক তরুণীকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করতে থাকে। গাড়ি ছাড়ার পরও তারা ধাওয়া করতে থাকে এবং পানাগড় পর্যন্ত উত্যক্ত করে। অভিযুক্তরা লাগাতার কুরুচিকর অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য করছিল। সঙ্গীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কিন্তু পালানোর চেষ্টাই তাদের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে ভেতরের লড়াই ফাঁস! আই-প্যাককে ‘ঠিকাদার’ বললেন কল্যাণ, তবে অভিষেকই কি আসল নেতা?

অভিযুক্তদের ধাওয়ার ফলে আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির চালক দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন। কিন্তু পানাগড় বাজারের রাইসমিল রোডে প্রবেশের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। প্রথমে একটি দোকানে, তারপর একটি শৌচাগারে ধাক্কা মারার পর গাড়িটি রাস্তার ধারে পড়ে থাকা লোহার যন্ত্রাংশের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তরুণীর মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা বাকি চারজন আহত হন, তবে প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জন্য আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

মৃত তরুণীর নাম সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ি হুগলির চন্দননগরে। পেশায় তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার কর্মী ছিলেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আবারও নারী সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles