ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ যে ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে, তার নতুন প্রমাণ মিলল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। প্রশাসনের তরফে বারবার সতর্কতা জারি হলেও মাটির স্তরে যে উত্তেজনা কমেনি, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে একের পর এক ঘটনায়। বিশেষ করে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের আগের দিন এমন ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই সরকারি জায়গা ব্যবহার করে প্রচার না করার নির্দেশ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই দুর্গাপুরে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
জানা যাচ্ছে, এসডিও অফিস থেকে নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মী নিয়মমাফিক এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। তাঁদের দায়িত্ব ছিল সরকারি দেওয়ালে লেখা রাজনৈতিক প্রচার মুছে ফেলা। সেই কাজ করতে গিয়েই দুর্গাপুরের কলোনিপাড়ায় একটি পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীর নাম মুছতে যান তাঁরা। অভিযোগ, এই কাজ করতে গিয়েই স্থানীয় কিছু লোক তাঁদের বাধা দেয়।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, দেওয়াল মুছে ফেরার সময় ওই দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। আক্রান্তদের দাবি, তাঁরা নিজেদের সরকারি কর্মী বলে পরিচয় দিলেও কেউ তা শোনেনি। তাঁদের কথায়, “ডিউটির নির্দেশ মেনে কাজ করছিলাম, কিন্তু আচমকাই হামলার শিকার হতে হল।” এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ SIR সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশে বড় মোড়, সোমবার সন্ধ্যায় চূড়ান্ত তালিকা – কারা থাকছেন, কারা বাদ, নজরে গোটা রাজ্য!
যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি। বরং বিজেপির নেতা অভিজিৎ দে বহিরাগতদের নিয়ে এসে নিজেরাই দেওয়াল মুছছিল এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছিল। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভোটের আগে এমন পরিস্থিতি যে আরও বড় অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।





