CEO: ছুটির দিনে ভোট, নাকি অবকাশ? শহুরে উদাসীনতার মাঝে কলকাতায় ভোট বাড়াতে বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের! বিশেষ উদ্যোগে কি বদলাবে ভোটের ছবি?

ভোট মানেই উৎসব, এই ধারণা গ্রামবাংলায় এখনও বেশ শক্তিশালী। কিন্তু বড় শহরগুলিতে ছবিটা যেন একটু আলাদা। ছুটির দিনে ভোট পড়লে অনেকেই সেটাকে বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে দেখেন, আবার কেউ কেউ ব্যস্ততার অজুহাতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এড়িয়ে যান। কলকাতার মতো মহানগরেও এই প্রবণতা নতুন নয়। বরং বছরের পর বছর ধরে শহরের ভোটের হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এবার সেই চেনা ছবিতে বদল আনতেই বড় উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবারের ভোটে কলকাতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহরাঞ্চলেও ভোটের হার বাড়ানো এখন প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে কলকাতায় ভোটারদের বুথমুখী করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বক্তব্য, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে হলে শহরের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তাঁর কথায়, “যত বেশি মানুষ ভোট দেবেন, ততই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবার কলকাতায় ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন। শুধু প্রচার নয়, ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রথমবারের ভোটার ও দ্বিধাগ্রস্ত নাগরিকদের বুথে আনতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহরে ভোটের হার কম থাকার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। অনেকেই কর্মসূত্রে শহরের বাইরে থাকেন, ফলে ভোট দিতে ফিরতে পারেন না। আবার অনেকের ভোটার কার্ড গ্রামে হওয়ায় শহরে নাম থাকে না। পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের মধ্যে ভোট নিয়ে অনীহাও একটি বড় কারণ। কেউ কেউ মনে করেন, একটি ভোটে ফলাফল বদলায় না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বুথের পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা যা অনেককে ঘর থেকে বের হতে নিরুৎসাহিত করে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2026: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ইমপিচমেন্টের পথে তৃণমূল, কিন্তু সাংবিধানিক সমর্থনই যখন যথেষ্ট নয়, এই পদক্ষেপ কি বাস্তবে সম্ভব, নাকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমত প্রভাবিত করার কৌশল?

তবে এবার পরিস্থিতি বদলাতে আশাবাদী কমিশন। মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, কলকাতায় ভোটের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা, এমনকি অ্যাপ ক্যাব সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তাও চলছে যাতে তারা সহজে বুথে পৌঁছতে পারেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের পর এই লক্ষ্য পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কমিশনের কাছে। এখন দেখার, শহরের মানুষ কতটা সাড়া দেন এই উদ্যোগে।

khabor24x72019

আরও পড়ুন

RELATED Articles