ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case: সারদা মামলায় ফের একবার নাম জড়াল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম পত্নী নলিনী চিদম্বরমের। তাঁর বিরুদ্ধ আজ, শুক্রবার ৬৫ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। সেই চার্জশিটে ইডির দাবী, সারদা মামলায় মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনের থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়েছিলেন নলিনী (ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case)। এই চার্জশিটের সঙ্গে এদিন ১১০০ পাতার নথি জমা করা হয়েছে আদালতে।
এই টাকা নেওয়ার বিষয়টি এর আগেও উঠেছিল। সেই সময় এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নলিনী জানিয়েছিলেন, তিনি আইনজীবী হিসেবে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সুদীপ্ত সেনের থেকে কনসালটেন্সি ফি হিসেবে এই টাকাটা নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই জবাবে মোটেই সন্তুষ্ট হন নি তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ইডির সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা মনে করছেন, নলিনী ওই টাকা একেবারেই কনসালটেন্সি ফি হিসেবে নেন নি। তিনি সেই টাকা নিয়েছিলেন আদতে ‘প্রোটেকশন মানি’ হিসেবে। কারণ এই টাকা যখন নেওয়া হয়েছিল, এই সময় অর্থাৎ ২০১২ সালে তাঁর স্বামী পি চিদম্বরম কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। নলিনী তাঁর স্ত্রী হিসেবেই সুদীপ্তর থেকে সেই টাকা নিয়েছিলেন (ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case)।
ইডি এদিন দাবী করে, এই মামলায় নলিনীকে তিনবার তলব করা হয়েছে। কিন্তু তিনি হাজিরা দেন নি। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। ফলে ইডির নোটিশের উপর হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। পরে হাইকোর্ট সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিলে সুপ্রিম কোর্টে যান নলিনী। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে নলিনীকে তলব করা যাবে না কিন্তু বাড়ি গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। সেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে ইডি মেইল করলেও এর উত্তর দেন নি নলিনী, এমনটাই দাবী ইডির (ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case)।
এদিন ইডি তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারী চার্জশিট জমা করে। তাতে নলিনীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ করা হয় (ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case)। এই চার্জশিট পেশ করলে, আদালত এদিন প্রশ্ন করে, “ কেন এতদিন পরে চার্জশিট দেওয়া হল”? ইডি জানায়, “তদন্ত চলছে। এটা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট”। বিচারক বলেন, “ধরে নিন একজন ক্রিমিনাল লইয়ার, তার কাছে অপরাধীরা যান আইনের সাহায্যের জন্য। তাহলে কি উনি মানি লন্ডারিংয়ের পার্ট হয়ে গেলেন”।
আদালত আরও প্রশ্ন করে, “উনি যদি কনসালটেন্সি নিয়ে থাকেন সেটা তো আয়কর দফতর দেখবে”। বিচারক প্রশ্ন করেন, “দশ বছর পর চার্জশিট কেন? আপনারা জমা দিলেন, আমি দেখব। কগনিজেন্স নেওয়া যাবে কি যাবে না, দেখা হবে। একজন ক্রিমিনাল টাকা লুঠ করল। তা থেকে ফি দিলেন, তাহলে কি আইনজীবী অভিযুক্ত হয়ে যাবে”। এদিন এই চার্জশিট গ্রহণ করে নি আদালত। কীভাবে নলিনী এই আর্থিক তছরুপের সঙ্গে জড়িত (ED filed Chargesheet against Nalini Chidambaram in Sarada Scam Case), তা বোঝাতে তথ্য পেশ করতে বলা হয়েছে ইডিকে। আগামী ১৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
ইডি সূত্রের খবর, ‘ফ্রন্টিয়ার’ সংবাদমাধ্যম চ্যানেলের এডিটর মনোরঞ্জনা সিংহের মাধ্যমেই নাকি নলিনীর আলাপ হয়েছিল সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে। ২০১২ সালে এই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একটি ৪২ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছিল সুদীপ্তর সারদার।





