দুর্নীতিতেই ভরপুর রাজ্য! পুর নিয়োগের সঙ্গেই যুক্ত রেশন দুর্নীতিও? একাধিক চালকল ও মুদির দোকানে হানা দিল ইডি

সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বেশ তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি। রাজ্যের নানান প্রান্তে চলছে তল্লাশি অভিযান। এবার এই পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই কী রেশনে দুর্নীতির খোঁজও পেলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা? আজ, বুধবার নদিয়া জেলার পাঁচ জায়গায় হানা দিয়েছে ইডির পাঁচটি দল। এই মুহূর্তে শান্তিপুর, ধুবুলিয়া, রানাঘাট, কৃষ্ণনগরে তল্লাশি চলছে। 

ইডি সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নানান জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে যে নথি উদ্ধার হয়েছে, তা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, এই পুর নিয়োগ দুর্নীতির টাকার একটা বড় অংশ চালকলে বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই কারণেই শান্তিপুরের এক চালকলে হানা দিলেন ইডি আধিকারিকরা।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় কৃষ্ণনগরের মল্লিক পাড়ার একটি মুদির দোকানের মালিকের বাড়ি যায় ইডি। পরে তাঁর দোকানে গিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যে দোকানে ইডি হানা দিয়েছে, সেই দোকানের মালিক জনৈক প্রদীপ দে। সূত্রের খবর, তাঁর কাছে রেশনে ‘দুর্নীতি’ সম্পর্কিত তথ্য নিতে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।

শুধুমাত্র কৃষ্ণনগরই নয়, নদিয়ার হরিণঘাটার নিমতলা বাজার এলাকায় একটি কারখানাতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি কর্তারা। কৃষ্ণনগরের চালকলেও হানা দিয়েছেন তারা। এছাড়াও, শান্তিপুরের বাবলা কন্দখোলা বাইপাসের ধরে ‘ইএসএসজিই রাইস মিল’ এবং ‘জিকে এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস’ নামের দুটি কারখানায় হানা দিয়েছে ইডি, এমনটাই খবর।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। সেখানে সাড়ে ১৯ ঘণ্টা ধরে তদন্ত। এমনকি, গত রবিবার এই মামলায় রাজ্যের পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতেও হানা দেয় সিবিআই। ওইদিন একাধিক পুর চেয়ারম্যানের বাড়িতেও চলে তল্লাশি।

এই ঘটনায় তৃণমূল অভিযোগ করেছে যে ১০০ দিনের বকেয়া টাকা ও কেন্দ্রের অন্যান্য বঞ্চনার বিরুদ্ধে দিল্লি গিয়ে যেহেতু তারা আন্দোলন করেছে, সেই কারণেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে এমন তল্লাশি করাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। সেই কারণেই এমন অভিযান। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফে।

RELATED Articles