পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বেশ তৎপর হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আজ, বৃহস্পতিবার সাতসকালে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে এই দুর্নীতির তদন্তে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মধ্যমগ্রাম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তল্লাসি চলছে বলে খবর। এছাড়াও, আজ আরও ১২টি পুরসভায় তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রী হন রথীন ঘোষ। এর আগে তিনি ২০১৪ সাল থেকে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মেয়াদেই মধ্যমগ্রাম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিন রথীন ঘোষের বাড়ি হানা দিয়ে প্রথমেই মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে ইডি। শুধু খাদ্যমন্ত্রীর বাড়িই নয়, এদিন কামারহাটি, টিটাগড়, বরানগর পুরসভার চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়ের বাড়ি-সহ মোট ১২টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রথম সামনে আসে। আদালতে ইডি দাবী করেছিল, অয়ন শীলের থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতে পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির হদিশ মিলেছে। সেই সমস্ত নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে।
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় রাজ্য। তবে রাজ্যের সেই আর্জি খারিজ করে আগের নির্দেশই বহাল রেখেছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
তবে তারপর ফের পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ইডি, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। গত সোমবার সপ্তাহের শুরুতে ওই মামলার শুনানিতে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে তৎপর হয় সিবিআই।





