ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানের। ইডি দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি। এই মামলাতেই তদন্ত করে চাঞ্চল্যকর তথ্য এল ইডির হাতে। জানা গিয়েছে, বিতর্কিত সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামের ওই সংস্থা থেকে নিয়মিত ভাতা পেতেন নুসরত জাহান।
কী অভিযোগ উঠেছিল নুসরতের বিরুদ্ধে?
টাকা নিয়েছেন অথচ ফ্ল্যাট দেন নি। এই অভিযোগ নিয়েই সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামের সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রতারিতরা গড়িয়াহাট থানায়। সেই মামলার তদন্ত করতেই অভিনেত্রী নুসরত জাহান, ও সংস্থার ২ ডিরেক্টর রাকেশ সিং এবং অভিনেত্রী রূপলেখা মিত্রকে তলব করেছিল ইডি। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দিয়েছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ অভিনেত্রী। প্রায় ৬ ঘণ্টা জেরা চলে তাঁর।
কী তথ্য এসেছে ইডির হাতে?
এবার এই মামলায় তদন্ত করতে গিয়েই আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল ইডি। জানা গিয়েছে, সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংস্থার থেকে নুসরত জাহান নিয়মিত ভাতা পেতেন। ইতিমধ্যেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারী অফিসারদের হাতে এসেছে তাঁর নিয়োগপত্র।
সেই নিয়োগপত্রেই নুসরতের এই ভাতা পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামের ওই সংস্থায় ৪০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন রূপলেখা মিত্র। ওই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে ছিলেন রূপলেখা। আর রাকেশ সিংয়ের হাতে ছিল সংস্থার বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার ছিল ।
এই প্রতারণা কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর সাংবাদিক বৈঠক করে নুসরত বলেছিলেন যে তিনি উক্ত ওই সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আর সময়মত সুদ-সমেত সেই ঋণ শোধও করে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
নুসরতের দাবী ছিল, তারপর ওই সংস্থার সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগাযোগ ছিল না। তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবী করেন তিনি। জোর গলায় বলেওছিলেন যে তাঁকে ইডি তলব করবে না। কিন্তু তাঁর সেই দাবীকে নস্যাৎ করে ইডির তলব পড়ে। হাজিরাও দিয়েছিলেন তিনি। এবার ইডির হাতে এল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই তদন্তের মোড় কোনদিকে যায়, সেটাই দেখার।






