সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এখনও পর্যন্ত ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও ভোটের সমস্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে তোড়জোড় শুরু। এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনও। লোকসভা নির্বাচনে কোন রাজ্যে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা নিয়েও হিসেব শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। জানা যাচ্ছে, সমস্ত রাজ্যের মধ্যে বাংলাতেই সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছে কমিশন।
কী জানাল নির্বাচন কমিশন?
কোন রাজ্যে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই চিঠি অনুযায়ী, বাংলার জন্য সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, বাংলায় ৯২০ কোম্পানি সিএপিএফ বাহিনী জওয়ান প্রস্তুত রাখার চিন্তাভাবনা করছে কমিশন। সমস্ত রাজ্য, এমনকি জম্মু ও কাশ্মীরের থেকেও বাংলায় বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ৭৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। আর এবার লোকসভা নির্বাচনে বাংলার জন্য ৯২০ কোম্পানি বাহিনী চাইছে কমিশন। অর্থাৎ আগের বারের থেকে ২০০ কোম্পানি বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছে কমিশন। আর এই সংখ্যক কমিশন দেশের বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের থেকে বেশি।
কেন বাংলায় এত বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়?
এর আগের ঘটনা থেকেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে লোকসভা নির্বাচনই হোক বা বিধানসভা নির্বাচন বা পঞ্চায়েত ভোট, বাংলায় বারবার যে ভয়াল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই আতঙ্কের। ভোট হিংসায় মারামারি, খু’ন, অশান্তি কিছুই বাদ যায়নি। সেই কারণে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে করা হয়, সেই কারণেই বাংলায় এত বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী চায় কমিশন।
কোথায় কত বাহিনী চাইল কমিশন?
জানা যাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সর্বোচ্চ ৬৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে কমিশন। ছত্তিসগড়ের জন্য ৩৬০ কোম্পানি, উত্তর প্রদেশের জন্য ২৫০ কোম্পানি, গুজরাটের জন্য ২০০ কোম্পানি, বিহারের জন্য ২৯৫ কোম্পানি বাহিনী চেয়েছে কমিশন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকে সব মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, এমনটাই জানা গিয়েছে।





