শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগের অন্ত নেই। এসএসসি থেকে শুরু করে টেট সবেতেই দুর্নীতির সাক্ষী বাংলা। এই দুর্নীতির জেরে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী থেকে একাধিক শিক্ষামহলের আধিকারিক জেলবন্দি। এমন আবহে টেট নিয়ে খানিক জট কেটেছিল বটে। কিন্তু এখন সেই একই চিত্র বলেই মনে হচ্ছে। এই বছরের টেট পরীক্ষা আপাতত বিশ বাঁও জলে!
নানান জট কাটিয়ে টেট নিয়ে ২০২২ সালে পরিস্থিতি খানিক নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই বছর প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছিল, এবার থেকে প্রতি বছর হবে টেট পরীক্ষা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বছর পর হয়েছিল টেট পরীক্ষা। ২০২৩ সালেও হয় পরীক্ষা। কিন্তু এই বছর আর টেট হবে না বলেই জানা যাচ্ছে।
পর্ষদ সূত্রে খবর, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যে টেট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, সেই চাকরিপ্রার্থীদেরই এখনও পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়নি। সেই কারণে আপাতত নতুন করে আর কোনও পরীক্ষা হবে না বলেই শোনা যাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল বলেন, “আগে আমরা দ্রুত নিয়োগ করব, তারপর পরীক্ষা নেব”।
এর আগে পর্ষদ সভাপতি জানিয়েছিলেন ২০২৩ সালেই নাকি দু’বার নিয়োগ হবে। কিন্তু সেকথাও রাখেনি পর্ষদ। টেট-এর কোনও নিয়োগই হয়নি। আর এবার এই বছর টেটই হবে না বলে সূত্রের খবর। হাতে আর মাত্র দু’মাস রয়েছে পরীক্ষার জন্য। এর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া যে সম্ভব নয়, তা বেশ স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শহরে! সাতসকালে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে বড় দুর্ঘটনা কলকাতার বস্তিতে, পুড়ে ছাই একাধিক ঘর!
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাঁচ বছর পর টেট পরীক্ষা হওয়ায় সেই বছর লক্ষাধিক প্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। উত্তীর্ণ হয়েছিলেন দেড় লক্ষ প্রার্থী। কিন্তু তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আর ২০২৩ সালের টেটের পরীক্ষার তো ফলই প্রকাশ হয়নি এখনও পর্যন্ত। ফলে এমন আবহে ফের পরীক্ষা নিলে পর্ষদের সমস্যাই বাড়বে। আবার এই বছর পরীক্ষা না হলে পরবর্তীতে আবার প্রার্থী সংখ্যাও বেড়ে যাবে। পর্ষদের দাবী, আগের কিছু আইনি জটের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। এরপর টেট আদৌ কবে হয়, সেটাই দেখার!





