রামপুরহাট গণহত্যাকাণ্ডে খোঁজ নেই দু’জনের, অগ্নিদগ্ধ লাশ শনাক্ত করা ‘আত্মীয়’ পরিবারের কেউ নন, তাহলে কে তিনি? ক্রমেই বাড়ছে রহস্য

রামপুরহাট গণহত্যাকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা নয়ে ধোঁয়াশা বেড়েই চলেছে। পুলিশের কথা অনুযায়ী, মোট আটজনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এদিকে মৃতদের আত্মীয় মিহিরাল শেখ ও বানিরুল শেখ দাবী করছেন যে ওই বাড়িতে মোট দশজনের মৃত্যু হয়েছে। তাহলে বাকি দু’জনের দেহ কোথায় গেল?

এর পাশাপাশি এমনও দাবী উঠেছে যে ওই রাতে তাড়াহুড়ো করে যে লাশ শনাক্ত করে দেহ কবর দিল, সেই আলাউদ্দিন শেখ পরিবারের কেউ নন। এদিকে পুলিশের খাতায় আলাউদ্দিন শেখকে মৃতদের ‘আত্মীয়’ বলে দাবী করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কে এই আলাউদ্দিন শেখ?

এছাড়াও উঠছে একাধিক প্রশ্ন! মৃতদের পরিবারের সদস্য থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হল না? সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া দেহ কীভাবে শনাক্ত করা হল? দেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হল না কেন? মাঝরাতেই ওই দেহগুলি কেন কবর দেওয়া হল? এত তাড়া কীসের? বাকি দেহ কোথায়? এমন প্রশ্ন এখন মিহিরাল শেখ ও বানিরুল শেখের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গিয়েছে যে সোনা শেখের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়, সেখানে ছিলেন সোনা শেখের স্ত্রী রূপালি বিবি, তাঁর শ্যালক মিহিরলাল শেখ, তাঁর স্ত্রী শেলি বিবি, মেয়ে তুলি খাতুন। বাড়িতে ছিলেন বানিরুল শেখের স্ত্রী ডলি বিবি ও বানিরুলের মেয়ে লিলি বিবির পরিবার। তবে এদিকে আবার পুলিশের খাতায় যে মৃতদের নাম রয়েছে, তারা হলেন – নূরনিহার বিবি (৫৮), রুপালি বিবি (৪০), বানি শেখ (৪০), মিহির শেখ (৩৫), নেকলাল শেখ (৪০) ও দুটি শিশু।

মিহিরাল শেখ ও বানিরুল শেখ পুলিশি তদন্তে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ, আনারুল শেখ এই গোটা ঘটনায় জড়িত। মিহিরলাল ও বানিরুলরা বলেন, “ঘটনার দিন আনারুল শেখ ও পুলিশকে ফোন করে বারবার সাহায্য চাইলেও কেউ পাত্তা দেয়নি”।

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভাদু শেখ হত্যাকাণ্ডে ও ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অগ্নিসংযোগের ঘটনায়।

RELATED Articles