শীতের শুরুতে রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি আলু চাষ হয় হুগলি ও বর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। কিন্তু অকাল বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আলুর চাষে। সদ্যই আলুর বীজ বসিয়েছিলেন কৃষকরা। কিন্তু বিগত দু’দিনের অকাল বৃষ্টির জেরে সেই আলুর বীজ পচে গিয়েছে। আর ঠাণ্ডাও সেভাবে না পড়ায় আলুর চাষেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
অনেক কৃষকই ঋণ নিয়ে আলুর বীজ বসিয়েছিলেন। কিন্তু অকাল বৃষ্টির জেরে আলুর বীজ পচে যাওয়ার কারণে মহাবিপদের মুখে পড়েছেন তারা। বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ে একদিন আগেই খানাকুলের এক কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যা করার খবর মেলে। এর ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই ফের পূর্বস্থলী থেকেও আরও এক কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যার খবর মিলল।
জানা গিয়েছে, মৃত ওই কৃষকের নাম সনাতন ঘোষ। স্থলীর দুই ব্লকের নিমদহ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছাতনি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, ঋণ নিয়ে আলুর বীজ কিনে তা বসিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অকাল বৃষ্টির জেরে জমির সব আলু নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এত বড় ক্ষতির কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বারবার আক্ষেপ করছিলেন বলে জানায় তাঁর পরিবার।
এরপরই আজ, শনিবার বাড়ির পাশেই আম গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যা করেন তিনি। এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে একদিন আগেই চাষের ক্ষতির কারণেই খানাকুলে আ’ত্ম’হ’ত্যা করেছেন এই কৃষক। তাঁর নাম তরুণ পালুই(৩৭)। বাড়ি খানাকুলের ঘোষপুর অঞ্চলের পিলখাঁ এলাকার। পরপর দুই দিন আলু চাষে ক্ষতির জেরে দুই কৃষকের আ’ত্ম’হ’ত্যার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চর্চা চলছে।





