নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জট যেন কাটছেই না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় বসে আন্দোলন করে যাচ্ছেন ভাবী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। আজ, শনিবার তাদের সেই আন্দোলন ১০০০ দিনে পড়ল। এদিন ১০০০ দিনের এই আন্দোলনের যন্ত্রণায় মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ করেন এক মহিলা চাকরিপ্রার্থী। এদিন বিকেলের দিকে ধর্না মঞ্চে যান তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁকে দেখেই সেখানে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠতে থাকে। ছোঁড়া হয় জুতোও।
ন্যায্য চাকরির দাবিতে ১০০০ তম দিনে পড়ল SLST দের আন্দোলন। এতদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ার হতাশায় এদিন মাথা ন্যাড়া করেন এক চাকরিপ্রার্থী। এরপর তাঁদের আন্দোলন মঞ্চ কার্যত রাজনৈতিক সভার রূপ নেয়। সেখানে ছুটে যান বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচি, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
সেই সময় সাময়িক অশান্তির পরিবেশ দেখা যায় সেখানে। কুণাল যখন ঢুকছেন তখন মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন বিমান বসু। তখনই কুনাল ঘোষকে একেবারে বিমানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ধর্না মঞ্চের চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন কুণাল। সেই সময় পিছন থেকে ধেয়ে আসে ‘চোর চোর’ স্লোগান। উড়ে আসে জুতোও।
এদিন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে কুণাল বলেন, “যদি কোনও ভুল হয়, তাহলে সেই সরকারের তরফে প্রায়শ্চিত্ত হবে। যারা স্লোগান দিচ্ছিল, তারা বহিরাগত”। এদিন সেখানে বসেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ফোন করেন কুণাল।
এতদিন ধরে আটকে রয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়া?
এই প্রশ্নের উত্তরে কুণাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, অভিষেক সবাই চান, নিয়োগ হোক, চাকরি হোক। কিন্তু কোনও একটা জটে তা আটকে রয়েছে। আমি সরকারি প্রতিনিধি নই। আমার ক্ষমতাও নেই। তবে ওই জট যাতে কেটে গিয়ে দ্রুত এঁরা চাকরি পান, তার জন্য আমার তরফে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি তা আগেও নিয়েছি, এবারও নিচ্ছি”।
জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল তিনটেয় ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠক করবেন চাকরি প্রার্থীদের ৭ প্রতিনিধি। মুখোমুখি হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন কুণাল ঘোষই। এভাবে আলোচনার রাস্তা খোলা হল।
এদিন ধর্না মঞ্চে কুণালের আগমনে নতুন আশার সঞ্চার হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের মনে। এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা চাকরির ব্যাপারে আশাবাদী। এখন দেখা যাক কী হয়। আশা রাখছি নতুন বছরেই হয়তো সুখবর পাব”। এবার দেখা যায়, কুণালের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের এই জট আদৌ কাটে কী না।





