ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা পুত্রবধূর ঘরে ঢুকলেন শ্বশুর, তারপর যা করলেন… হাতেনাতে ধরা পড়লেন প্রৌঢ়

মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মা। বাড়িতেও অন্য কেউ ছিল না। আর সেই সুযোগই কাজে লাগান ব্যক্তি। আচমকাই ঢুকে পড়েন ছেলের বউয়ের ঘরে। ঘুমন্ত অবস্থাতেই বৌমাকে খুন করেন ওই ব্যক্তি। এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী কারণে এই খুন, তা এখনও জানা যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের পাল পাড়া এলাকায়। অভিযুক্ত শ্বশুরের নাম হেমাংশু মিত্র। জানা গিয়েছে, আজ, শনিবার সকালে নিজের দশ বছরের মেয়েকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন বধূ মিঠু মিত্র। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। স্বামী নীলাংশু মিত্র সেই সময় বাজারে গিয়েছিলেন। আর এই সময়টাকেই বেছে নেন হেমাংশু।

অভিযোগ, সেই সময় বাড়ির সমস্ত দরজা-জানলা বন্ধ করে মিঠুর ঘরে ঢোকেন হেমাংশু। হাতে ছিল কাঠারি। শ্বশুরকে এমন রুদ্রমূর্তি অবস্থায় দেখে কিছু বোঝার আগেই গলায় পড়ে কোপ। সমানে মিঠুকে কোপাতে থাকেন হেমাংশু। সেই সময় নাতনি চিৎকার করে বাধা দিলেও কোনও লাভ হয়নি।

চিৎকার শুনে ছুটে আসে পাড়া-প্রতিবেশীরা। ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায় তাদের। রক্তাক্ত অবস্থায় মিঠুকে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশে খবর দিলে পুলিশ হেমাংশুকে গ্রেফতার করে। তদন্ত শুরু হয়েছে এই ঘটনার।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ আগে থেকে দরজা বন্ধ করে বধূকে কোপানো হয়। বাচ্চা মেয়ের কন্না শুনে আমরা ছুটে আসি। হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃক বলে জানায়। দোষীর কঠোরতম শাস্তি চাই”।

খুনের কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। শ্বশুরের সঙ্গে বৌমার বনিবনা না থাকলেও ঝমেলা সেরকম ছিল না বলেই প্রাথমিক সূত্রে খবর। কেন হেমাংশু এই খুন করলেন, এর সদুত্তর মেলেনি। পরিবারের বাকি সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। মিঠুর মৃতদেহ চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

আরও অন্যান্য খবর