সাপের কামড়ে ছেলের মৃত্যু, ছেলের বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পুত্রবধূর জীবনে আলো ফোটালেন শ্বশুর

অকালে মৃত্যু হয়েছে একমাত্র ছেলের। বছর খানেক আগে সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে বউমা ও নাতনির দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্বশুর। কিন্তু তাঁর নিজেরও তো বয়স হয়েছে। আর পুত্রবধূর সামনে তাঁর গোটা জীবন পড়ে রয়েছে। পুত্রবধূ ও নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পুত্রবধূকে বিয়ে দিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়ার বৃদ্ধ কিশোর চট্টোপাধ্যায়।

কিশোর চট্টোপাধ্যায় জামুরিয়ার চিঁচুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তাঁর একমাত্র ছেলে ইন্দ্রজিতের বিয়ে দেন পূজার সঙ্গে। ছেলে, বউমা, নাতনি নিয়ে ভালোই কাটছিল কিশোরবাবুর পরিবার। কিন্তু সুখ বেশিদিন সইল না। বিয়ের দু’বছরের মধ্যেই সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় কিশোরবাবুর ছেলের। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন পূজা।

কিন্তু পুত্রবধূ এবং নাতনির ভবিষ্যতের কথা ভেবে পূজার পুনরায় বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন কিশোরবাবু। নিজেই পাত্র দেখা শুরু করেন। শেষে পাত্র হিসাবে কিশোর যাঁকে পেলেন তিনি ছেলেরই ছোটবেলার বন্ধু। তাঁর পরিবারকেও চেনেন কিশোর।

এই পরিবারে বৌমা গেলে সে ভালো থাকবে, এমনটাই ভাবেন কিশোরবাবু। সম্বন্ধ নিয়ে চিঁচুড়িয়ার গ্রামেরই বাসিন্দা প্রভাত ফৌজদারের বাড়িতে হাজির হন তিনি। প্রভাতের পরিবারের সকলে কিশোরবাবুর প্রস্তাব মেনে নেন।

অবশেষে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে গতকাল, শুক্রবার আসানসোলের ঘাগরবুড়ি মন্দিরে বিয়ে হয় প্রভাত ও পূজার। দুই পরিবারের সকলে আশীর্বাদ করেন নবদম্পতিকে। এর পাশাপাশি কিশোরবাবু ও প্রভাতের প্রশংসা করেন সকলে। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বিশ্বনাথ সাঙ্গুই ও পঞ্চায়েত সদস্য অমিত কুমার চক্রবর্তী।

RELATED Articles