রাণাঘাটের ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমার পুজো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, বন্ধ হয়ে গেল পুজো?

দুর্গাপুজোর আর ৬ দিন বাকি। প্রথম থেকেই রাণাঘাটের কামালপুর এলাকার অভিযান সংঘের পুজো নিয়ে শুরু হয়েছিল জটিলতা। ১১২ ফুটের প্রতিমার পুজোর জন্য অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এবার সেই পুজো নিয়ে নেওয়া হল বড় সিদ্ধান্ত। শেষমেশ পুজোটা হবে তো? সকলের মনে প্রশ্ন একটাই।  

রাণাঘাটের অভিযান সংঘ সবথেকে উঁচু দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে বড় এক চমক দিতে চেয়েছিল দর্শনার্থীদের। এই বিষয়টি ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও জানানো হয়েছে বলে খবর। কিন্তু এত সব কিছুর মধ্যে এই পুজোর অনুমতি দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন। সেই কারণে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পুজোর উদ্যোক্তারা। গত মঙ্গলবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা উঠলে তিনি এই বিষয়ে জেলাশাসককে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন।   

এই পুজো নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের যুক্তি ছিল, এই পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে পুজোর জন্য প্রতিদিন   কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হবে। তবে পুজোর যা মণ্ডপ তাতে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন বলে দাবী বিদ্যুৎ দফতরের। আর এই এত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কার্যত অসম্ভব বলেই এর অনুমতি দেয়নি বিদ্যুৎ দফতর। দমকলের আবার যুক্তি, ওই পুজো কমিটিকে আগের বছরের পুজো ও জমির অনুমতি পত্র জমা করতে হবে। কিন্তু তা তারা জমা করে নি। সেই কারণেই পুজো কমিটির আবেদন বাতিল করেছে দমকল বিভাগ। এরপর জেলাশাসক এই পুজোতে অনুমতি দেয় নি। তবে পরে ফের আদালত জানায়, জেলাশাসক যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই চূড়ান্ত।  

এবার এই পুজো নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন পুজোর উদ্যোক্তারা। যিনি মূলত আদালতে গিয়েছিলেন, সেই উদ্যোক্তা জানান, “আদালতে জেলাশাসকের কাছে পাঠিয়েছিলেন আমাদের, যাতে বিবেচনা করে দেখা হয়। আসলে এই পুজোটায় একটা গোটা গ্রামকে তুলে আনার প্রয়াস ছিল। গ্রামের পরিকাঠামোই উন্নত হত। কারণ গ্রামের ছেলেমেয়েরাই কাজ করছিল। এখন পর্যন্ত ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এটা গ্রামবাসীদেরই টাকা। আদালতে যাওয়ার মতো, গ্রামবাসীদের কাছে আর টাকা নেই। চাঁদা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিটুকুও নেই। আদালতে গেলে তো পয়সা লাগে”।

আরও পড়ুনঃ ‘আপনাদের পাশে থাকার জন্য এমপি পদ ছেড়েছি, কাজে ফিরুন, কাজ থেকে দূরে থাকবেন না…’, জুনিয়র চিকিৎসকদের আর্জি তৃণমূলত্যাগী জহর সরকারের 

রানাঘাটের এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবী। উদ্যোক্তারা জানান, তাদের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করাই মূল সমস্যা। শুধু টাকাই নয়, ৪০ বিঘা জায়গা তাঁরা পুজোর জন্য ফসল না করেই রেখে দিয়েছিলেন। পুজো বাতিল হওয়ায় কেঁদে ফেলেন এক মহিলা। বলেন, “আমাদের পুজো শেষ। গ্রামবাসী সবার চোখে জল। আশপাশের গ্রামের মানুষও এটাই বলছেন”।

RELATED Articles