ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল জলদাপাড়া অভয়ারণ্য। সোমবার রাত আটটা নাগাদ এই অভয়ারণ্যের ভিতরে তোর্ষা নদীর চর সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় হঠাৎই আগুন লেগে যায়। নিমেষে জ্বলে ওঠে শুকনো ঘাসে ভরা তৃণভূমি। ঘটনার আঁচ পেতেই ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসেন এলাকার মানুষজন। এরপর স্হানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এবং দমকল ও বনকর্মীদের চেষ্টায় রাত প্রায় বারোটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
বনদফতর সূত্রে খবর, তোর্ষা নদীর চরে এই তৃণভূমি মূলত গন্ডারের বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু এই সময় ঘাসের জঙ্গল পুরোপুরি শুকিয়ে যায় তাই গন্ডাররা তখন নদীর চর থেকে জঙ্গলের দিকে সরে আসে। না হলে এমন বিধ্বংসী আগুনে অনেক গন্ডারের মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। তবে বড়মাপের প্রাণহানি না হলেও জঙ্গলের বেশ কিছু ছোটখাট জন্তুর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে এদিন জলদাপাড়ার মালংগি বিটের ১ ও ৩ নম্বর কম্পার্টমেন্টের মাঝখানে আগুন লেগে যায়। এবিষয়ে জলদাপাড়ার ডিএফও কুমার বিমল বলেন, “নদীতে মাছ ধরতে এসে কেউ জ্বলন্ত বিড়ির টুকরো ছুড়ে ফেলেছিলেন। তার থেকেই আগুন লাগে। ঘাস শুকনো থাকাতেই এমন বিপত্তি। প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হেক্টর জমির জঙ্গল ভস্মীভূত হয়েছে।”
তিনি জানান, এর আগেও নদীতে মাছ ধরতে আসা মানুষজনের ফেলে যাওয়া বিড়ির আগুনে ছোটখাটও আগুন ধরেছে। তবে তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। কিন্তু সোমবার হাওয়ার দ্রুততা বেশি থাকায় এই আগুনই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় মানুষজন আগুন নেভাতে এগিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বনকর্মীরাও। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আগুন নেভানোর কোনো কৌশলই কাজে লাগছিল না। এরপর খবর দেওয়া হয় ফালাকাটা দমকল অফিসে। শেষপর্যন্ত রাত বারোটা নাগাদ পুরোপুরি নেভে জঙ্গলের আগুন। বনকর্তারা জানান, আগুনের তীব্রতা যতটা ছিল তাতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এবিষয়ে কুমার বিমল বলেন, “অভিজ্ঞতায় দেখেছি, জঙ্গলে আগুন লাগলে বড় জন্তুরা অন্যদিকে পালিয়ে বাঁচতে পারে। মারা যায় জঙ্গলে থাকা ছোট জন্তুরা। এ দিনও একই ঘটনা ঘটেছে।”





