আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এক অমানবিক ঘটনা হলো নারীর ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, শহর থেকে গ্রামের গলি পর্যন্ত, এমনকি শিক্ষিত, স্বচ্ছল পরিবারেও নারীরা শারীরিক, মানসিক, এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে, নারীরা নির্যাতনের পরেও চুপ থেকে যায়, কারণ তারা ভয় পায়, আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে অথবা সমাজের চোখে সম্মানহানি হওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেন না। এই চুপ থাকা, তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নারীরা যখন নির্যাতিত হন, তখন অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পান না। পরিবার বা সমাজের জন্য সম্মানহানির ভয়ে, অথবা তাদের ক্ষমতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পেয়ে তারা নিঃশব্দে সহ্য করে যান। নারীদের জন্য একজন শক্তিশালী সমাজব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সুরক্ষা না থাকলে, তারা কতটা নির্যাতনের শিকার হয়, তার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত পাই। এমনকি, যারা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন, তাদেরকে আবারও সমাজের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়, যা আরো নিঃশক্তি ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
এমনই এক কাহিনী শেয়ার করেছেন মৈত্রী ভট্টাচার্য, যিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। মৈত্রী ২০২১ সালে আর্য চৌধুরী নামক এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক বছর পর, ১৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে তাদের বৈধভাবে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সম্পর্কের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে থাকে। প্রথমে মানসিক নির্যাতন, তারপর শারীরিক নিপীড়ন শুরু হয়। তার জীবনের প্রথম শারীরিক আক্রমণ শুরু হয় ২৩ মার্চ ২০২৪ তারিখে, যখন আর্য তাকে মারধর করেন।
মৈত্রী তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে দ্রুত মুক্ত করে নেয় এবং তাদের ক্ষমতার দাপটে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। মৈত্রী জানান, তার শাশুড়ি তাকে বারবার মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকির পরেও তেমন কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি, তার স্বামী তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন এবং তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাকে শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ জন্মদিনে শোকের ছায়া! এখনও বিচারের আশায় তিলোত্তমার পরিবার!
মৈত্রী তার ভয়ানক অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে সমাজের সামনে একটি বড় সংকেত দিলেন। নারীর ওপর সহিংসতা এবং অমানবিক আচরণ যে শুধু নিম্নশ্রেণির পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং উচ্চবিত্ত এবং শিক্ষিত পরিবারের মধ্যেও ঘটতে পারে, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। তার সাহসী পদক্ষেপ থেকে এটি স্পষ্ট যে, সমাজের সকল স্তরে নারীদের অধিকারের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।





