‘কবে টাকা ফেরত দিবি বল’? শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতার কলার চেপে ধরলেন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থী

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে গোটা রাজ্য উত্তাল। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে শাসক দল তৃণমূলের তাবড় তাবড় সব নেতা-মন্ত্রীদের। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আপাতত জেলবন্দি। অনেক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেই টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার বা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এবার একটি ভিডিও ভাইরাল হল।

কী ভিডিও ভাইরাল হয়েছে?

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে চেয়ারে বসে রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন মিশ্র। তাঁর কলার চেপে ধরে রয়েছেন এক ব্যক্তি যিনি একজন প্রতারিত চাকরি প্রার্থী। স্বপন মিশ্রকে তুইতোকারি করে বলতে শোনা যায় ওই ব্যক্তিকে। ওই ব্যক্তি স্বপন মিশ্রকে প্রশ্ন করেন, “টাকা কবে দিবি?”

এর উত্তরে প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, “টাইম দিতে হবে”। ওই ব্যক্তি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “কতদিন সময় লাগবে”? সেই প্রশ্নের যদিও উত্তর দেন নি প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। তিনি শুধু এক কথাই আওড়ে চলেছেন, “টাইম দিলে হয়ে যাবে”। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪৭।

কী অভিযোগ স্বপন মিশ্রর বিরুদ্ধে?

স্বপন মিশ্র ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তিনি চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা তুলেছিলেন। একজন বা দু’জন নয়, এমন অসংখ্য ব্যক্তির থেকে তিনি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। কিন্তু চাকরি কেউ পান নি।

জানা গিয়েছে, এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার পুলিশের দ্বারস্থও হন। অনেক চাকরি প্রাপকই নিজেদের বাড়ি-ঘর বিক্রি করে সেই টাকা দিয়েছিলেন চাকরি পাওয়ার আশায়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর উধাও হয়ে যান অভিযুক্ত। প্রসঙ্গত, স্বপন মিশ্র যে শুধু প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান ছিলেন তা নয়, তিনি মালদহ জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যও ছিলেন। 

এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের?

এই ঘটনার বিষয়ে মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি আবদুল রহিম বক্সি বলেন, “এ রাজ্যে আইনের শাসন রয়েছে। কেউ আইনেক উর্ধে নয়। কেউ যদি সত্যি অভিযুক্ত থাকেন আইন দেখবে। আইন কেউ নিজে হাতে তুলে নিতে পারেন না। যারা এই অভিযোগ তুলছেন তাদের প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া উচিৎ”।

আরও অন্যান্য খবর