প্রয়াত রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্ত। আজ, শনিবার বারাণসীর এক হাসপাতালে মৃত্যু হয় এই প্রতিবাদী কণ্ঠের। একমাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে রাজ্য পুলিশের আইজি পদে থাকাকালীনই অবসর নিয়েছিলেন তিনি। প্রাক্তন আইজির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বিজেপির নেতানেত্রীরা।
আর জি কর কাণ্ডে সরব হয়েছিলেন পঙ্কজ দত্ত। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে আর জি কর নিয়ে করা তাঁর এক মন্তব্য বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সেই মন্তব্যের কারণে অনেকের বিরাগভাজন হন তিনি। একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বড়তলা থানা থেকে তলব করা হয়েছিল তাঁকে।
সেই সময় প্রাক্তন আইজিকে দীর্ঘ সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয় থানায়। জলটুকুও দেওয়া হয়নি তাঁকে, এমনটাই অভিযোগ ওঠে। এমনকি, থানা থেকে বের হওয়ার পরও তাঁকে হেনস্থা করেছিল পুলিশ ও তৃণমূলের লোকজন, এমনটাই অভিযোগ। সেই সময় এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এরপর ২৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে এক সেমিনারে অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন পঙ্কজ দত্ত। সেমিনার শেষ হতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। আজ, শনিবার প্রয়াত হন প্রাক্তন আইজি।
পঙ্কজ দত্ত অসুস্থ হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন,”পঙ্কজ দত্তর হঠাৎ অসুস্থতার জন্য দায়ী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় বিভিন্ন সময় সরব হয়েছেন পঙ্কজ দত্ত। পুলিশের বিভিন্ন তদন্তের গাফিলতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন আইজি”।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে চালু হচ্ছে ‘সেবাশ্রয়’! এবার বিনামূল্যে সমস্ত চিকিৎসা পাবে রাজ্যের মানুষ, বড় কর্মযজ্ঞ অভিষেকের
তাঁর কথায়, “সম্প্রতি আরজি করের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সমালোচনা করেছিলেন পঙ্কজ দত্ত। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পঙ্কজ দত্তকে হেনস্থা করেন কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা। বড়তলা থানায় ডেকে দিনভর হেনস্থা করা হয় রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি-কে। তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী কলকাতা পুলিশই। চূড়ান্ত মানসিক নির্যাতন করা হয় পঙ্কজ দত্তকে”। এদিন তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন নানান বিজেপি নেতৃত্ব।





