শরীরে লুকিয়ে সোনা পাচারের ঘটনা প্রায়শই দেখা যায়। এমনকি বিমানবন্দরে আটক হয় এমন বহু লোক। যারা নানা কৌশলের সোনা পাচার করার কাজে নিযুক্ত। পাচারকারীদের প্রত্যেকবার নতুন নতুন কৌশল মাথায় জট ফেলে বড় বড় পুলিশ অফিসারদের। এবার এমনই ঘটনা ঘটল জগৎবল্লভপুরে। সেখানে সোনা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এমন নতুন কৌশলে সোনা পাচারের সব কোষ আছে পাচারকারীরা তাতেই অবাক সকলে।
মৃতদেহ সাজিয়ে চলাই মদ পাচারের ঘটনা ঘটেছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। পাচারকারীদের চেষ্টা বিফলে গেছে, ধরা পড়তে হয়েছে পুলিশের হাতে। পুলিশের কাছে আগেই খবর ছিল সেই মতোই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও আবেগারি দপ্তর চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করে। জানা গিয়েছে ৮০০ লিটার চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পাচারকারীদের থেকে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও গ্রেফতার করতে পারেনি কাউকে। কারণ পুলিশ আসার খবর তারা কিছুক্ষণ আগেই পেয়ে গেছিল আর তাতেই পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।শুক্রবার দপ্তরের জগৎবল্লভপুর এলাকার ওসি অংশুমান ঘোষের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
জগৎবল্লভপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে একটি ইটভাটাতে ঘটেছে ঘটনাটি। চারিদিকে ছড়িয়ে শেষকৃত্যের সরঞ্জাম। যেন কোন সৎকারের প্রস্তুতি চলছে। তারি মাঝে বালির সাদা চাদরে ঢাকা মৃতদেহ রাখা। খুব সহজে কারো সন্দেহ হওয়ার কথা নয়। অন্য কেউ চাদরের মুখ খুলে দেখতেও যাবেন না মৃতদেহকে। তাই এই পরিকল্পনাই করে পাচারকারীরা।
মৃতদেহ দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। পুলিশ মৃতদেহ চাদর তুলতেই অবাক হয়ে যায়। কোন মৃতদেহ নয়, বালিশ চাদরে ঢাকা রয়েছে চোলাই মদের বোতল। নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গেছে, এই আবহে আবেগারি দফতর নিয়মিত চোলাই মদ বাজেয়াপ্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। আবগারি দপ্তরের কাছে খবর পৌঁছাতেই অভিযান চালাতে তৎপর হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, এভাবে নকল মৃতদেহ সাজিয়ে হুগলি থেকে লরিতে করে চোলাই মদের জার এনেছিল পাচারকারীরা। গোটা ঘটনার নীরবে করতে সৎকারের পরিবেশও তৈরি করেছিল, চোলাই মদকে সাজানো হয়েছিল মৃত দেহ। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। দপ্তরের কর্তাদের দাবি, “দোলের জন্য হুগলি থেকে এই চোলাই নিয়ে এসেছিল পাচারকারীরা। প্রশাসনের নজর এড়াতে শশ্মানের মধ্যে মৃতদেহ সাজিয়ে মদ মজুত করেছিল।”





