নানান ধরণের দুর্নীতির (corruption) জেরে এখন রাজ্য উত্তাল। নানান দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন তৃণমূলের একাধিক নেতা। গ্রেফতার হয়েছেন শাসকদলের দুই প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) ও অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। এর জেরে কোণঠাসা তৃণমূল (TMC)। এবার ফের একবার তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে উঠে এল দুর্নীতির অভিযোগ। টাকার বিনিময়ে ভুয়ো সিভিক ভলান্টিয়ারের (civic volunteer) চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠল শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে।
প্রথমদিনই চাকরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক ভুয়ো মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। ধরা পড়ার পর তিনি জানান যে এলাকার এক তৃণমূল নেতা তাঁর থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের পোশাক ও কাজের শংসাপত্র দেন। তৃণমূল নেতার কথাতেই তিনি ব্যাঙ্কে ডিউটি করতে যান বলে জানান ওই মহিলা। এই ঘটনা জানাজানি হতেই গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।
ভুয়ো ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম মাঞ্জেরা খাতুন। তিনি হরিশচন্দ্রপুর থানা এলাকার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মতিলাল এলাকার বাসিন্দা। আজ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ওই ভুয়ো মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে ভালুকা ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃত ওই মহিলা জানান যে ওই এলাকারই এক তৃণমূল নেতা তাঁর থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে তাঁকে সিভিক ভলান্টিয়ারের পোশাক দেন।
মাঞ্জেরা আরও জানান যে তাঁর স্বামী শাহজাহান ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁর চাকরির জন্য ধার-দেনা করে সেখান থেকে টাকা পাঠিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। ধৃত ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে এলাকায় ওই তৃণমূল নেতার খোঁজ চালায় পুলিশ। কিন্তু তাঁর সন্ধান মেলেনি। ভালুকা ফাঁড়ি ও হরিশচন্দ্র থানার পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর চরম অস্বস্তিতে মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেস। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল যুব সভাপতি মনিরুল ইসলাম জানান, “আইন আইনের পথেই চলবে। কেউ দোষ করে থাকলে তাকে দল প্রশ্রয় দেবে না”।
আবার অন্যদিকে, ভালুকা ফাঁড়ির ইন-চার্জ ঝোটন প্রসাদ বলেন, “ভুয়ো সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তল্লাশি চালানো হচ্ছে”।





