আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু না হওয়ায় বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত বাংলা

 

আয়ুষ্মান‌ ভারত প্রকল্পের অন্তর্গত যাঁরা এবং অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণির মানুষরা বিনামূল্যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে পারবেন বলে এদিন সুপ্রিম কোর্ট মামলার রায় দিয়ে জানালো। ৮ই এপ্রিলের রায় সংশোধন করে জানালো শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি রবীন্দ্র ভাটের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লির একজন ডাক্তার ডঃ কৌশন্ত কান্ত মিশ্রের দায়ের করা মামলার শুনানিতে বলেছেন, সারা দেশে করোনার পরীক্ষা নিখরচায় করতে হলে বেসরকারী ল্যাবগুলো করোনার পরীক্ষা থেকে বিরত থাকবে। আবেদনে বলা হয় যে, কোভিড ১৯ এর পরীক্ষা বেসরকারি সংস্থাগুলিতে সর্বাধিক ৪৫০০ মূল্য যেন রাখা হয়।

আদালতের বেঞ্চে উপস্হিত বিচারপতিরা এদিন চিকিৎসকের পাশাপাশি সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা, যিনি শীর্ষ আদালতের সামনে কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন তার পক্ষেও যুক্তি শুনেছেন।

সলিসিটর জেনেরাল এদিন বিচারকদের জানান, ‘সরকারের কাছে করোনার টেস্টের জন্য সীমিত টেস্ট কিট আছে। তাই সবার জন্য বিনামূল্যে টেস্ট করানো সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশে ১৩৯ টি সরকারি ল্যাব তৈরি করা হয়েছে করোনার টেস্টের জন্য। যা কোনো ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা না দেখেই সবাইকে সমান সুবিধা দেবে।’

সুপ্রিম কোর্টের কাছে পিটিশনে এও আবেদন করা হয় যে, সরকারের তরফ থেকে যেন বেসরকারী ল্যাবগুলিতে করোনার টেস্টের জন্য অর্থসাহায্য করা হয়। না হলে এই মুহূর্তে বেসরকারী ল্যাবগুলি পরীক্ষা বন্ধ করার ঝুঁকি নেবে যা নাগরিকদের সরাসরি স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হিসাবে দেখা দেবে।

এরপর দুপক্ষের কথা বিচার করে শীর্ষ আদালত রায় দেয় যে, করোনা নির্ণয়ের যে পরীক্ষা করা হবে তা শুধু মাত্র আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্গত মানুষদের জন্য বিনামূল্যে হবে।

শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, কারা এই সুবিধা পাবে, কারা পাবে না– কেন্দ্রীয় সরকারকেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বেসরকারি ল্যাবরেটরিগুলি আইসিএমআর নির্ধারিত খরচেই করোনার পরীক্ষা করতে পারবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। আর এই টেস্ট গুলো National Accreditation Board for Testing and Calibration (NABL), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অথবা আইসিএমারের (ICMR) অনুমোদিত ল্যাবেই হবে শুধুমাত্র।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি চালু করেননি রাজ্য সরকার। ফলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক লক্ষ বঙ্গবাসী। একাধিকবার বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় সহ অন্যান্য নেতারা রাজ্যের কাছে আবেদন করেন প্রকল্পটি চালু করার জন্য কিন্তু রাজ্যের তরফে কোনো জবাব আসেনি। পোস্ট অফিসে রাজ্যের মানুষের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কার্ড চলে এলেও, সমস্ত পোস্ট অফিসে সেই কার্ড নষ্ট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ বিজেপির। তাই এই করোনা দুর্যোগের পরিস্থিতিতে রাজনীতির মারপ্যাঁচে অসহায় হলেন রাজ্যবাসীরা।

RELATED Articles

Leave a Comment