Kashmir Attack: ‘রাত ১২টায় থানার ওসি এসে বললেন ভিডিও ডিলিট করো, না হলে…!’ কাশ্মীর হামলার প্রতিবাদে যুবতীর উপর চড়াও তৃণমূল ঘনিষ্ঠরা!

ঘরের চারদেওয়ালে বসে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কোনও ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ খোলা কি এতটাই বড় অপরাধ? নিজের মত প্রকাশ করলেই কি একজন মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি পেতে হবে? দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান খবর দেখে অনেকেই প্রতিবাদ জানান, কেউ লেখেন, কেউ ভিডিও করেন। কিন্তু সেই প্রতিবাদই যদি জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? সম্প্রতি এক যুবতীর ভিডিও দেখার পর এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে।

দেশজুড়ে এখন উত্তাল কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনা। সেই হামলায় নিহত হয়েছেন নিরীহ পর্যটকরা, আহত বহু। তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভে সোচ্চার হয়েছে দেশবাসী। তবে এই প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেই এক যুবতী আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর চোখের জল, কাঁপা গলা আর ভয়—সব মিলিয়ে স্পষ্ট, আজও এই দেশে নারীরা কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কাশ্মীর হামলার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন অশোকনগরের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা দত্ত। সেই পোস্টে অনেকেই সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ শুরু করেন কু-মন্তব্য। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ, পরপর আসতে থাকে গালিগালাজ, তারপর সরাসরি ধর্ষণের হুমকি। একটি ভিডিওতে কাঁদতে কাঁদতে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “তোকে তুলে নিয়ে যাব, তোকে ধর্ষণ করব”—এই ধরনের বার্তা পাঠানো হয়েছে তাঁকে। এমনকি মেসেঞ্জারে ফোন করে মুখে মুখে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এই হুমকিদাতাদের মধ্যে একজনের দাবি, সে বিএসএফ-এ চাকরি করে। আরেকজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য বলে নিজেকে দাবি করেছে। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “আমি নিজেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থক। কিন্তু তাদের কি এটা শেখানো হয় যে একজন মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি দিতে হবে?” তাঁর মতে, যেভাবে তাঁর উপর সাইবার ও মানসিক হেনস্থা হয়েছে, তাতে তিনি আর নিজের বাড়িতেই নিরাপদ বোধ করছেন না। এমনকি এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি থানায় অভিযোগ জমা দিলেও, তার পরেই শুরু হয় আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি।

আরও পড়ুনঃ SSC: “রাস্তায় নয় , এবার ক্লাসরুমে! ঘেরাও থেকে সরে দাঁড়িয়ে নতুন রণকৌশলে চাকরিহারারা!

প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর ভিডিও ডিলিট করতে থানার ওসি-সহ ৭-৮ জন পুলিশ অফিসার মধ্যরাতে তাঁর বাড়িতে হাজির হন। তাকে নাকি জোর করে ভিডিও মুছতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তাঁকে বলা হয়, ভিডিও না ডিলিট করলে তাঁর বাবা-মার ক্ষতি হতে পারে বা তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে। এরপরই তাঁর পুলিশের ওপর আস্থা ভেঙে পড়েছে। তাঁর পরিচিতদেরও ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এক রাতেই সোচ্চার এক কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে একাধিক পক্ষ। অথচ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন নাগরিকের প্রতিবাদ কি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে আজকের সমাজে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles