- ছাপোষা এক মুদি সে। ব্যাঙ্কে সব মিলিয়ে হাজার ছয়েক টাকা ছিল। হঠাৎই ঢোকে ৪ লক্ষ টাকা। ব্যাপারখানা বুঝে উঠতেই সময় লেগে তাঁর। এরপরই পরপর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে থাকে আরও লক্ষ। সব মিলিয়ে ১২ লক্ষ টাকা। কিন্তু এত টাকা এল কীভাবে, তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না মুদি।
বছর চল্লিশের ওই মুদির নাম সুখেন ঘোষ। বয়স চল্লিশ বছর। বারাসাতের নতুনপুকুরে বাসিন্দা। দমদম স্টেশনের পাশে এমসি গার্ডেনে একটি ছোট্ট মুদির দোকান রয়েছে সুখেন ওরফে বুবাই। জানা গিয়েছে, গত শনিবার তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢোকে। তা দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। এত টাকা কেন তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকল, তা নিয়ে ভয় জন্মাতে থাকে তাঁর মনে।
দ্বিধা-ভয় কাটিয়ে নিজের বিশ্বস্ত বন্ধুদের একথা জানান বুবাই। একজন বলেন, আরেক জনের সঙ্গেও নাকি এমন হয়েছিল, সেই ব্যক্তি সেই টাকা তুলে নিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বুবাই যে সৎ ব্যবসায়ী। ২০ টাকা বেশি কেউ দিলেও সে সেটা ফিরিয়ে দেয়, আর এতগুলো টাকা তিনি নিয়ে নেবেন, এমনটা হতে পারে না।
সঙ্গে সঙ্গে এটিএমে ছোটেন বুবাই। চেক করে দেখেন সত্যিই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে টাকা। ব্যাঙ্কে গিয়েও বা কী বলবেন। টাকা তোলা বা জমা দেওয়ার জন্য ফর্ম রয়েছে। কিন্তু অন্যের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে, সেই টাকা তোলার তো আর ফর্ম মেলেনা। আর ব্যাঙ্ক কর্মীরা তাঁর কথায় বিশ্বাস করবেনই বা কেন!
এসব ভেবেই তিনি যান বারাসাত থানায়। গিয়ে সব জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে চান। কিন্তু এমন অজ্ঞাত কারণের জন্য তো আর এফআইআর দায়ের করা যায় না। তবে পুলিশ তাঁর থেকে সমস্ত ঘটনা লিখিয়ে নিয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করে যে এই ঘটনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবশেষে দু’দিন পর স্বস্তি পান বুবাই। দেখেন তাঁর অ্যাকাউন্ট আর লক্ষ লক্ষ টাকা নেই। তাঁর নিজের যে টাকা ছিল, সেটাই রয়েছে কেবল। অবশেষে শান্তি পান তিনি।
কিন্তু এমনটা কেন হয়েছিল?
ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয় যে ইন্টারনেটের সমস্যার জন্য এমনটা হয়েছে হয়ত। এক কর্মীর কথায়, “তার পরিমাণ হয়তো লক্ষ লক্ষ টাকা নয়। কিন্তু যাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে, তিনি যদি টাকা তুলে নেন, তা হলে সেই টাকাও ফেরত পেতে অনেক সময়ে কালঘাম ছুটে যায়”।





