লক্ষ্মী এসেছে ঘরে! কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় খুশির হাওয়া, ব্যান্ড বাজিয়ে নতুন সদস্যকে ঘরে তুলল পরিবার

কন্যা ভ্রুন হত্যা থেকে, কন্যা সন্তান হলে অপমান গঞ্জনা সইতে হয় অনেক মাকেই। বর্তমান সময় দাঁড়িয়েও যাতে পুত্র সন্তান হয় তার জন্য অনেকেই পূজা অর্চনা করতে দেখা যায়। ‌ আবার এমনও ঘটনা ঘটেছে হাসপাতালে ডাক্তারকে ঘুষ দিয়ে পেটের ভ্রুন মেয়ে নাকি ছেলে তা জেনে, হত্যা করা হয়েছে শিশুকে। ‌ নির্মম অত্যাচার চলেছে মায়েদের উপর। মেয়ে হওয়ার দায় যেন মায়ের। সেখানে কলকাতায় এলাকায় নয় একেবারে গ্রাম্য এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল এক পরিবার। কন্যা সন্তান (Baby girl) হওয়ার দরুন ব্যান্ড বাজিয়ে গাড়ি সাজিয়ে মেয়ে ও স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি আনলেন ওই ব্যক্তি। খুশির হাওয়া গোটা পরিবারেও।

কন্যা সন্তান (Baby girl) হওয়ার আনন্দে আত্মহারা গোটা পরিবার। বাঁধ মানল না বাবার উচ্ছ্বাস। লক্ষ্মী ঘরে আসতেই তার অভ্যর্থনায় লেগে পড়ে পরিবারের লোকজনেরা। ‌যেখানে এখনকার দিনে অনেক সময় ছেলে হওয়াকে কেন্দ্র করে নানান সমস্যায় জড়ান স্ত্রীয়েরা। সেখানে গান বাজনা, ব্যান্ড বাজিয়ে লক্ষ্মীকে ঘরে তুলে নিচ্ছেন ওই পরিবার। ব্যান্ড বাজিয়ে শোভাযাত্রার আয়োজন করল ঘরের মেয়ের জন্য। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে হাসপাতাল থেকে ক্ষুদেকে বাড়ি আনলেন বাবা। শুধু তাই নয় স্ত্রীকে ফুলের কার্পেট পেতে ঘরে স্বাগত জানিয়েছেন স্বামী। এমন নজির বিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বীরভূমের মহাম্মদ বাজারের জয়পুর গ্রাম। সেই গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়নাথ মাহারা সদ্যজাতের জন্য এমন আয়োজন করেছিলেন।

পরিবারের এই আয়োজন দেখে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় এলাকার মানুষেরা। পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তানের (Baby girl) মধ্যে কোন বিভেদ নেই এমনই বার্তা দিলেও বীরভূমের ওই পরিবার। সদ্যোজাতর বাবার কথায়, “আমাদের মেয়ে হয়েছে। মেয়েদেরকে অনেকভাবে অবহেলা করা হয়। সমাজে মেয়েরাও এগিয়ে পুরুষদের থেকে কোন সে পিছিয়ে নেই তারা এই বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছি। ছেলেমেয়ে দুজনেই সমান এমন বার্তা দিতে চেয়েই এমন আয়োজন। ব্যান্ড বাজানো, গাড়ি সাজানো থেকে শুরু করে আরো নানা আয়োজন করেছেন নতুন বাবা। আমি সমাজে এই বার্তাই প্রতিস্থাপন করতে চাই মেয়ে হলে দুঃখের কোন কারণ নেই।”

নাতনিকে (Baby girl) বাড়ি নিয়ে এসে খুশি বাবা-মা সহ পরিবারের বয়স্করাও। প্রিয়নাথের বাবার কথায়,” আমাদের এই এলাকা পিছিয়ে পড়া এলাকা, এই বার্তাই দিতে চাই কন্যা সন্তানকে অবজ্ঞা,অবহেলা যেন না করা হয়। ছেলেদেরকে যেমন ভালোবাসি মেয়েদেরকেও এমন ভালোবাসায় সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে চাই। ছেলে বা মেয়ের ভালোবাসার মধ্যে যেন কোন বিবাদ না থাকে। গোটা পাড়াকে জানিয়েছি আমাদের বাড়িতে কন্যা সন্তান এসেছে। কন্যা সন্তানেরা ও এখন কোন দিক থেকে পিছিয়ে নেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। নিজেদের নাম নিয়ে এগিয়ে চলছে। আমাদের তপশিলি জাতি যারা আছে তাদের প্রতি আমি বলতে চাই, আমরা যেন কন্যা সন্তানকেও সমান ভাবে ভালোবাসি। ‌ মেয়েদেরকে আদর ভালবাসার মধ্যে দিয়ে বড়ো করে শিক্ষিত করে তুলি যাতে।” সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বীরভূমের মাহারা পরিবার। কন্যা সন্তানের জন্য এমন আয়োজন পরবর্তী অন্য কাউকেও পথ দেখাবে এমন ভাবনা ওই পরিবারের।

RELATED Articles