মিড ডে মিল নিয়ে রাজ্যে অভিযোগের অন্ত নেই। মিড ডে মিলের খাবারে মরা সাপ, টিকটিকি, পোকা থাকার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। মিড ডে চালে পোকা, এমন ঘটনাও দেখা গিয়েছে অনেক। নিম্মমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই। এবার মিড ডে মিল চুরি করার অভিযোগ উঠল।
শিশুদের মিড ডে মিল চুরির অভিযোগ উঠল খোদ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই। এই অভিযোগ তুলে স্কুলের গেটে তালা ঝোলালেন অভিভাবকরা। স্কুলের বাকি শিক্ষকরাও সেই অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। শেষমেশ চাপে পড়ে পদত্যাগ করলেন ওই অভিযুক্ত শিক্ষক।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শনিবার পাঁশকুড়ার পুলশিটা ভোলানাথ বিদ্যায়তনে। দীর্ঘদিন ধরেই ওই প্রধান শিক্ষক চঞ্চল মাইতির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিল। তিনি ঠিকমতো স্কুলেই আসেন না বলে অভিযোগ। এমনকি, পড়ুয়ারাই চেনে না প্রধান শিক্ষককে। মিড ডে মিলে দুর্নীতি করারও অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিভাবকদের দাবী, স্কুলে ৬০ জনের জন্য মিড ডে মিল রান্না হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক দেখান ১৫০ জনের মিড ডে মিলের বরাদ্দ। বাকি টাকা দিনের পর দিন ধরে আত্মসাৎ করছেন ওই প্রধান শিক্ষক, এমনটাই অভিযোগ। এমনকি, পরীক্ষার হলেও প্রধান শিক্ষক থাকেন না বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। মিড ডে মিলের খাবারের গুণগত মানও ঠিক নেই।
এই সমস্ত অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন পার্শ্ব শিক্ষকরাও। এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কোনও প্রতিক্রিয়া দেন নি। এই অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “স্কুলের পঠন পাঠন ভাল হয় না। চঞ্চলবাবু স্কুলের উন্নয়নের টাকা চুরি করে। উনি সকাল ছটায় আসেন। স্কুল শুরুর আগেই চলে যান”।
ওই স্কুলের এক পার্শ্ব শিক্ষক দেবাশীস রঞ্জন কোনার বলেন, “ওনার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সত্যি। উনি স্কুলে আসেন না। পঠন পাঠন হয় না। মিড ডে মিলের চাল চুরি করেন। শুনলাম পদত্যাগ পত্র দিয়ে দিয়েছেন”।





