যাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণের কথা তারাই হয়তো উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারছেন না। এমন তো হতেই পারে সঠিক আচরণ করছেন না শিক্ষকেরা (Teacher)। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে হাসনাবাদের একটি স্কুলে। স্কুলের কিছু ছাত্রের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন খোদ প্রধান শিক্ষক। এই মন্তব্যের এই উত্তপ্ত হয়েছে এলাকা। প্রধান শিক্ষকের (Teacher) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। এমনকি স্কুলের গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালাও।
বৃহস্পতিবার এমনই ঘটনা ঘটেছে হাসনাবাদের বিশপুর হাই স্কুলে। ঘটনাস্থলে প্রধান শিক্ষক উপস্থিত হলে উত্তেজনা আর তীব্র আকার ধারণ করে। এমনকি ডাকতে হয় পুলিশও। পুলিশ স্কুলে পৌঁছে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন থানায়। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয় কিছুই বলেননি তিনি। এমনকি এই অভিযোগ যে মিথ্যে সে কথা বলতে শোনা যায়নি তাকে। তবে কি সত্যিই দোষ থাকার জন্যই চুপ করে ছিলেন প্রধান শিক্ষক সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবক মহলে। তারপরেও কেন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না স্কুলের তরফে সেই নিয়ে চর্চা তুঙ্গে।
ছাত্র-ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে প্রধান শিক্ষকের মন্তব্য প্রসঙ্গে স্কুলের দশম শ্রেণির কয়েক জন ছাত্রী বলেন, “আমাদের পোশাক নিয়ে প্রধান শিক্ষক বহু দিন ধরে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। কয়েক দিন আগেও উনি ফের খারাপ কথা বলেন। ক্লাসে এসে পড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে অন্য রকম কথা বলেন।”
কোন শিক্ষকের এই বিরূপ আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। কয়েক জন অভিভাবকের কথায়, “প্রধান শিক্ষক লাগাতার বিতর্কিত মন্তব্য করছেন। ঠিক ভাবে স্কুল পরিচালনা করতে পারছেন না। প্রশাসনের উচিত ওঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।”
প্রধান শিক্ষকের এই আচরণ নিন্দনীয়। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি প্রসেনজিৎ জানা। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক যদি স্কুলে পোশাক-বিধি চালু করতে চান, তা হলে সকলের সঙ্গে বৈঠক করে নিয়ম তৈরি করতে পারতেন। এ ভাবে আপত্তিকর মন্তব্য করে ঠিক করেননি।”।
স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা বসিরহাট আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ জানা বলেন, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ করছে ছাত্রীরা, তা সত্যি হলে ওঁর শাস্তি হওয়া উচিত। উনি বার বার বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে স্কুলকে কালিমালিপ্ত করছেন। উনি যা বলেছেন, তার দায় ওঁর নিজের। পরিচালন কমিটি বা অন্য শিক্ষকেরা কিছু জানেন না।” এ বিষয়ে হিঙ্গলগঞ্জের স্কুল পরিদর্শক ও বসিরহাটের এডিআইয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





