কলকাতার রাস্তায় এখন হাঁটতে গেলেই বোঝা যায় গরমটা কতটা চরমে উঠেছে। রিকশাওয়ালার কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে, অফিসফেরত মানুষ ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ছেন চায়ের দোকানে। দিনের প্রখর রোদ আর রাতের দমবন্ধ গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে জনজীবন। বাড়িতে এসি চললেও স্বস্তি নেই, কারণ আর্দ্রতা বেড়ে গিয়ে ঠান্ডা বাতাসও যেন গরম লাগছে।
শুধু রাস্তাঘাট নয়, ঘরের ভেতরেও যেন তাপ ঢুকে পড়েছে। সকাল ৮টা থেকে সূর্যর দাপট শুরু হয়, আর দুপুর গড়াতে গড়াতেই মাথা ঘোরা অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে ছোটোদের খেলাধুলা, অফিস যাত্রা, এমনকি বাজারে যাওয়াও দুঃসহ হয়ে উঠেছে। গরমের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণও বেড়েছে, যার ফলে অস্বস্তি আরও দ্বিগুণ।
শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূমের মতো পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ বহু জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই করছে। আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে, যা জনজীবনে বিরাট প্রভাব ফেলছে। তবে এই ছবিটা আর বেশি দিন স্থায়ী হচ্ছে না বলেই আশার কথা শোনাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, শনিবার থেকে পশ্চিমের কিছু জেলায় আকাশের রং বদলাতে শুরু করবে। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। একইসঙ্গে উত্তরের জেলা যেমন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বৃষ্টির ফলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, আবহাওয়ার প্রকৃত পরিবর্তন ঘটবে রবিবার থেকে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : অক্ষয় তৃতীয়ার আগেই জীবনে আসবে নাটকীয় বদল! শনির দৃষ্টিতে কারা হবেন ভাগ্যবান?
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে রবিবার থেকে। ওই দিন দুপুর গড়াতেই দক্ষিণবঙ্গে বইতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে থাকবে বৃষ্টি। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই ঝড়বৃষ্টির দাপট থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি একটি সাময়িক পরিবর্তন হলেও, আপাতত গরমের কষ্ট থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে। তবে সঙ্গে থাকছে সতর্কতা—ঝড়বৃষ্টির সময়ে বাইরে না বেরোনোই শ্রেয়।





