বছরের এই সময়টায় এমনিই মেঘ-বৃষ্টির খেলা চলতেই থাকে। তবে এবারের বর্ষা যেন একটানা নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কখনও হালকা ফোঁটা, কখনও বা ঝমঝমিয়ে বর্ষণ—এই মিলিয়ে বাংলার আকাশ যেন রীতিমতো রোম্যান্টিক হয়ে উঠেছে। ভেজা বাতাসে শহর আর গ্রামের পার্থক্য যেন মুছে যাচ্ছে। কিন্তু এই মন ভোলানো বৃষ্টির মধ্যেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে মিলছে কিছু চিন্তার ভাঁজও।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের খবর বলছে, বৃহস্পতিবার থেকে টানা ২৮ জুন শনিবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে রাজ্যজুড়ে। ইতিমধ্যেই উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূল এলাকায় সৃষ্ট একটি চক্রবৎ ঘূর্ণাবর্ত আরও ঘনীভূত হয়ে উঠছে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে। তার প্রভাবেই আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলেই নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। এর ফলে বঙ্গের বাতাসে প্রবেশ করবে বিপুল জলীয় বাষ্প, যার জেরে আগামী তিন দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টি হতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই। কাল শুক্রবার রথযাত্রার দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে মুক্তি মিলছে না। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম—এই তিন জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
শনিবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। তবে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব বর্ধমানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কয়েক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। রবি ও সোমবারেও ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই, ফলে অনেকটাই স্বস্তি মিলতে পারে রাজ্যবাসীর। উত্তরবঙ্গে আজ ও আগামীকাল ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও শনি ও রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে গেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুনঃ Astrology : জুনের শেষে শুক্র গোচর, ৩ রাশির ভাগ্য খুলছে! প্রেম-অর্থ-সাফল্যে আসছে জোয়ার!
কলকাতায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ, যা আবার শহরের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।





