এপ্রিলের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে বাংলার আকাশে যেন অন্য এক খেলার ইঙ্গিত মিলছে। দিনের শুরুতে রোদের তেজ যতটা ছিল, দুপুর গড়াতেই তা কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। হালকা হাওয়া, ছড়ানো মেঘ আর মাঝে মাঝে ঝিরঝিরে বাতাস— সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষজন এমন আবহাওয়ায় একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখলেও, মনের কোণে একটা আশঙ্কাও বাসা বাঁধছে। সত্যিই কি স্বস্তির বৃষ্টি নামবে, না কি দুর্যোগের আর এক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে?
গ্রাম হোক বা শহর, পথঘাটে, বাজারে, বাসে-ট্রেনে সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা— ‘আবহাওয়ার এই বদল কি বড় ঝড়ের আভাস?’ প্রখর রোদ আর দাবদাহের জেরে যেভাবে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল, মানুষজন চাইছেন এক পশলা বৃষ্টির পরশ। তবে এর সঙ্গে সঙ্গেই চিন্তা বাড়ছে চাষিদের মনে— কারণ বৃষ্টি যেমন গরম কমাবে, তেমনি বিপদও ডেকে আনতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে, আর সর্বনিম্ন ২৭.৯ ডিগ্রি। হাওয়ার দাপট আর হালকা বৃষ্টির ছোঁয়ায় এই সপ্তাহজুড়ে পারদ আরও নামবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির দমক এমন হবে যে অল্প সময়ের মধ্যেই শহর গ্রাম ঢেকে যেতে পারে জলে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার থেকে হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তাই এই জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। আবার কলকাতা সহ বাকি জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সতর্ক থাকতে বলেছে হাওয়া দপ্তর।
দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী সাতদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ এবং আগামীকাল উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্যও নির্দেশ এসেছে— মঙ্গলবার পর্যন্ত যেন কেউ সমুদ্রে না যান। বিশেষ করে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার — সব জায়গাতেই বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, তার জন্য প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ CPIM : কমরেডদের হাতে কামড়ের দাগ! দলীয় পার্টি অফিসে রণক্ষেত্রের ছবি!
সব মিলিয়ে বাংলায় গরমের রোষ থেকে কিছুটা রেহাই মিললেও আসল পরীক্ষাটা এখন দুর্যোগ সামলানোর। টানা সাতদিনের ঝড়বৃষ্টি শুধু তাপমাত্রা কমাবে না, ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলবে। তাই আবহাওয়াবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, আগামী কদিন সতর্ক থাকাই শ্রেয়। হালকা বৃষ্টিতে ভিজে ফুর্তি করার মোহ থাকলেও মনে রাখতে হবে, তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়া যে কোনো মুহূর্তে বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাংলার আকাশে জমে থাকা ঘন মেঘ এখন শুধু বৃষ্টি নয়, দুশ্চিন্তাও বয়ে আনছে।





