CPIM : কমরেডদের হাতে কামড়ের দাগ! দলীয় পার্টি অফিসে রণক্ষেত্রের ছবি!

রাজনীতির ময়দানে বিরোধ বা মতপার্থক্য অস্বাভাবিক নয়। বরং, সেটা গণতন্ত্রেরই অঙ্গ। কিন্তু সেই দ্বন্দ্ব যদি সীমা পেরিয়ে গিয়ে শারীরিক সংঘর্ষে গড়ায়, তখন তা কেবল দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন তোলে না, দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও টলিয়ে দেয়। আর ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে কলকাতার কসবায়, যেখানে সিপিএমের পার্টি অফিসের মধ্যেই বেধে গেল রীতিমতো ধুন্ধুমার কাণ্ড। হাতাহাতি তো বটেই, চলল কামড়াকামড়িও! দলের পুরনো কর্মী সমর্থকদের মনেও তাই এখন প্রশ্ন— এ কোন পথে এগোচ্ছে লালঝান্ডার পার্টি?

রাজ্যের রাজনীতিতে সিপিএমের শক্তি একসময় ছিল ঈর্ষণীয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে ছবি। ভোটের ময়দান থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে তারা। তবে সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা এখনও জারি রেখেছে। সেই চেষ্টার মধ্যেই হঠাৎ এমন অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আসায় প্রবল অস্বস্তি তৈরি হয়েছে দলীয় মহলে। কসবায় যা ঘটল, তা দলের অভ্যন্তরীণ সংকটকেই যেন ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

শনিবার রাতে কসবায় সিপিএমের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের এরিয়া কমিটির অফিসে চলছিল নিয়মিত বৈঠক। শুরুটা ছিল একেবারে স্বাভাবিক। কিন্তু বৈঠকের মাঝামাঝি এসে একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ চরমে ওঠে। প্রথমে কথাকাটাকাটি, তারপর মুহূর্তের মধ্যে তা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। সংঘর্ষ এতটাই বেড়ে যায় যে, কারও হাতে চোট লাগে, সেলাই পড়ে, কেউ আবার কপালে ব্যান্ডেজ নিয়ে বাড়ি ফেরেন। রক্ত ঝরার পর বৈঠক মাঝপথেই ভেঙে যায়। উপস্থিত সকলে কার্যত হতবাক হয়ে যান এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপু দাস। যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তাঁর এই নীরবতা আরও সন্দেহের অবকাশ তৈরি করে। জানা যাচ্ছে, যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নির্দেশ দেন, পুরো ঘটনার বিশদ বিবরণ লিখিত আকারে জেলা কমিটিতে জমা দিতে। দলের অন্দরের খবর, যুব সংগঠনের নেতা নির্বাচন নিয়ে আগেই যে বিতর্ক চলছিল, তার রেশ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ Astrology: শুক্র দেবের মহামহিম গোচর !৩ রাশির জাতকদের জন্য আসছে সুখবর!

সিপিএমের মধ্যে এর আগে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। প্রবীণ নেতারা স্মরণ করাচ্ছেন, হুগলির জাঙ্গিপাড়ার জেলা সম্মেলনে সংঘর্ষের মধ্যে নির্মল মুখোপাধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কসবায় যা ঘটল, তা যেন সেই পুরনো দুঃস্মৃতিকেই ফিরিয়ে দিল। দলের ভিতরে এই ঘটনা নিয়ে চাপা ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এক নেতার কথায়, “সরকারে থাকা অবস্থায় যেমন দলাদলি চলত, আজও দল কমতে কমতেও আমরা সেই অভ্যাস ছাড়তে পারিনি। সত্যি বলতে, পার্টিতে এখন সত্যনারায়ণ পুজো দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই।”

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles