গ্রীষ্মের গরমে হাঁসফাঁস করছিল রাজ্যবাসী। তার মাঝেই হঠাৎ করে নেমে এল কিছুটা স্বস্তি। তবে সেটা যে স্থায়ী নয়, তা আগেই জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। এবার ফের বাংলার দিকে ধেয়ে আসছে বর্ষার শক্তিশালী ইনিংস। একটানা বৃষ্টিতে আবারও জলমগ্ন হতে পারে রাজপথ থেকে অলিগলি—এমন ইঙ্গিত মিলছে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস থেকে। তাতে আবার আশঙ্কার ছায়াও ঘনাচ্ছে রথযাত্রার দিন ঘিরে।
আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট বলছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলেছে একটি নতুন ঘূর্ণাবর্ত। এর জেরে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। এই ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হবে কিনা, সেদিকে নজর রাখছে মৌসুমীবিদরা। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ক্রমশ সক্রিয় হচ্ছে, যার ফলে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। ফলে আগামী ৫ দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
আজ, সোমবার থেকেই কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ প্রভৃতি জেলায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে বুধবার দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে রয়েছে কমলা সতর্কতা। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৭ জুন রথযাত্রার দিনেও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে শনিবার ২৮ জুন পর্যন্ত।
দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েকদিন ধরে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদা প্রভৃতি জেলায় আকাশ ভেঙে বৃষ্টির সম্ভাবনা। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে রয়েছে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুনঃ Astrology : সমৃদ্ধির দরজা খুলছে আজ থেকে, বুধের আশীর্বাদে ভাগ্য বদলাবে পাঁচ রাশির জাতক-জাতিকারা!
এবারে রথযাত্রার সপ্তাহে এমন আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেক পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিতে পারে। যাঁরা দিঘা, পুরী বা অন্য কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের এখনই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শহর ও গ্রামীণ এলাকায় প্রশাসনকেও নিতে হবে আগাম বন্যা বা জলমগ্নতার প্রস্তুতি। রাজ্য জুড়ে ফের একবার বর্ষার দাপটের মুখে পড়তে চলেছে বাংলা।





