গতকাল ঘটে যাওয়া হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের রহস্যমৃত্যুর সিবিআই তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ বনধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। আজ সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় নিজেদের ডাকা বনধকে সফল করতে রাস্তায় নেমে পড়ে গেরুয়া শিবির। সারা উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই সকাল থেকে বনধের ছবি। রায়গঞ্জ, চোপড়া, ইসলামপুর-সহ গোটা জেলাতেই দোকানপাট খোলেনি। বন্ধ পরিবহন ব্যবস্থাও। রায়গঞ্জ ব্লকে বনধের চেহারা সর্বাত্মক।

একই ছবি ধরা পড়েছে কোচবিহারে। এদিন সকালে কোচবিহার শহরের বাস টার্মিনাসে পিকেটিং শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। জেলা সভাপতি মালতী রাভার নেতৃত্বে অবরুদ্ধ করা হয় বাস টার্মিনাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিরাট পুলিশ বাহিনী। অন্যদিকে বনধের বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল করতে দেখা যায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিউসিকে।

তবে অন্য জেলাগুলিতে বনধে মিশ্র প্রভাব পড়েছে। তবে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে বনধের কোনও প্রভাব পড়েনি। সকালের দিকে বাস আটকানোর চেষ্টা করে বিজেপির সমর্থকরা। পুলিশ গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয় বাস টার্মিনাস থেকে। স্বাভাবিক রয়েছে জোড়া ব্রিজ এলাকার পাইকারি বাজারও। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিজেপি। পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের হঠিয়ে দেয়। জোর করে বনধ করার অভিযোগে রাজগঞ্জের ফাটাপুকুর এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতারে।

তবে বিজেপির ডাকা বনধে ভালই সাড়া দিয়েছে আলিপুরদুয়ার। সকাল থেকে যানবাহন, দোকানপাট বন্ধ। তবে হাতে গোনা সরকারি বাস চালাচ্ছে প্রশাসন। তাতে যাত্রী নেই বললেই চলে। বিজেপির কর্মী সমর্থকরাবনধের সমর্থনে রাস্তায় নামেন।

সারা উত্তরবঙ্গেই সরকারি বাস পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বন্ধ বেসরকারি বাস। বিজেপির বক্তব্য, সর্বাত্মক বনধ হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। তৃণমূলের অবশ্য বক্তব্য, বনধ্ সংস্কৃতিকে বাংলার মানুষ অনেকদিন আগেই ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।






