বিজেপি কর্মীর খু’নে অভিযোগ দায়ের করতে নারাজ পুলিশ, ‘দেবের বাইক বাহিনী সন্ত্রাস করছে ঘাটালে’, বিস্ফোরক হিরণ, আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

ভোট এখনও শুরু হতে বেশ কিছুদিন বাকি। এর আগেই রাজ্যে শুরু রাজনৈতিক হত্যা। পূর্ব মেদিনীপুরের খড়গপুর এলাকায় খু’ন হয়েছে এক বিজেপি কর্মী। সেই ঘটনায় এখন উত্তাল এলাকা। এই খু’নের অভিযোগে কাঠগড়ায় তৃণমূল। ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবার বিস্ফোরক এই ঘটনায়।  

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম শান্তনু ঘোড়াই। পরিবার সূত্রে খবর, গতকাল, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন শান্তনু। এরপর আর বাড়ি ফেরেন নি তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন ধানজমিতে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানা গিয়েছে। শরীরে বিড়ি-সিগারেটের ছ্যাঁকা ছিল।

পুলিশে খবর দেওয়া হল ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লোকাল খড়গপুর থানার পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের দাবী, তাদের ছেলে বিজেপি করত বলেই এই খু’ন। এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তারা। দোষীদের শাস্তির দাবী উঠেছে।

এই ঘটনায় বিস্ফোরক ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল যে হিংসা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করল তার বদলা কিন্তু আমরা নেব। তৃণমূলকে সতর্ক করছি। এটা কিন্তু ২০১৯, ২০২১ নয়। মানুষ জন আন্দোলন করলে পালাবার পথ পাবেন না”। তাঁর কথায়, ঘাটালে দেবের বোমা বাহিনী, বাইক বাহিনী এভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি কর্মীদের উপর।

আজ, মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন হিরণ। তাঁর অভিযোগ, এই খু’নের জন্য অভিযোগ দায়ের করতে চাইছে না পুলিশ। তিনি জানান, তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ দাবী করে, কোনও খু’ন হয়নি। ওই বিজেপি কর্মী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। হিরণের চাপে সেই মুহূর্তে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে বটে। তবে অভিযোগ, আজ, রবিবার সকালে ফের পুলিশ মৃতের পরিবারকে চাপ দেয় যাতে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন হিরণ। তাঁর কথায়, পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলদাস। সেই কারণেই তারা অভিযোগ নিতে চাইছে না। এই ঘটনায় আগামী মঙ্গলবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া কথা জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।      

যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, “হিরণের এই হাস্যকর বক্তব্য থেকে আমার যেটা মনে হচ্ছে প্রচারে লোক পাচ্ছে না, দেবের সভায় হাজার হাজার মানুষ দেখে এসব মৃতদেহকে হাতিয়ার করছে”।

RELATED Articles