আর একদিন পরই কালীপুজো। বাংলা এখন আলোর উৎসবে মেতেছে। একাধিক জায়গায় চলছে কালীপুজোর প্রস্তুতি। বাংলার অনেক প্রাচীন প্রাচীন কালীপুজো রয়েছে। এই কালীপুজো নিয়ে নানান লোককথাও প্রচলিত রয়েছে। কালীপুজো নিয়ে এমন অনেক লোককথা প্রচলিত রয়েছে বাঁকুড়ার সোনামুখীতে।
বাঁকুড়ার অনেক পুরনো একটি এলাকা হল সোনামুখী। সেখানে অসংখ্য কালীপুজো হয়। এর মধ্যে অন্যতম হল ‘মা-ই তো কালী’। এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। এই কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস ভক্তদের। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন মায়ের পুজো দিতে।
এই ‘মা-ই তো কালী’ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে হাড়হিম করা ইতিহাস
কথিত রয়েছে, ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে সময়টাতে বাংলায় চলছে বর্গী হামলা। কোনও জনবসতিই রক্ষা পায়নি বর্গীদের আক্রমণ থেকে। এই বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকার উপরও নজর পড়ে বর্গীদের। সেই সময় বর্গী মারাঠাদের সেনাপতি ভাস্কর মণ্ডলের নেতৃত্বে এই এলাকায় হামলা চলে। গোটা এলাকা তটস্থ হয়ে যায় বর্গীদের ভয়ে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েন এখানকার মানুষ।
কথিত রয়েছে, এমনই এক সন্ধ্যায় ওই ভাস্কর পণ্ডিত সোনামুখীর এক পর্ণ কুটিরের সামনে উপস্থিত হন। সেই সময় হাড়িকাঠের সামনে আসনে বসেছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁকে মারতে খড়গ তোলেন ভাস্কর পণ্ডিত। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই দৃষ্টি হারান তিনি। আর তাঁর মনে হতে থাকে তাঁর খড়গ যেন কেউ পিছন থেকে আটকে রেখেছে। কিন্তু সবাইকে জিজ্ঞেস করতে সকলেই জানান যে কেউ সেই খড়গ ধরে নেই।
এমন সময় ওই বৃদ্ধ মন্দিরের ঘটের জল ছিটিয়ে দেন ভাস্কর পণ্ডিতের উপর। আর সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান তিনি। আর তাঁর হাতের খড়গও নামাতে পারেন। সেই সময় ভাস্কর পণ্ডিত বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করেন যে সেখনে কোনও দেবস্থান রয়েছে কী না! বৃদ্ধ জানান, এখানে পর্ণ কুটিরে মা কালী পূজিত হন। তা শুনে ভাস্কর পণ্ডিত চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘মা-ই তো কালী’। এরপর থেকেই সেই প্রতিমার নাম হয় ‘মা-ই তো কালী’।
জানা যায়, ভাস্কর পণ্ডিত সেই খড়গটি ওই বৃদ্ধকে দিয়ে যান, সেই খড়গ নাকি এখনও রয়েছে সেই মন্দিরে। পরবর্তীতে সেই পর্ণ কুটিরই হয়ে ওঠে বিশাল মন্দির। তৈরি হয় মায়ের পঞ্চমুণ্ডী আসন। এখন ভক্তদের ভরসা ও বিশ্বাসের অন্যতম হলেন এই ‘মা-ই তো কালী’। হাজার হাজার ভক্তদের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। আর কালীপুজোর সময় তো ভক্তদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খান পুজো কমিটির সকলে।





