মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন যে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনও রোগীকে ফেরাতে পারবে না। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নার্সিং হোম রোগীর চিকিৎসা করতে বাধ্য, এমন নির্দেশিকাই দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এরপরেও কোনও লাভ হল না। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দেখা মিলল সেই একই ছবির। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও মুমূর্ষু রোগীকে ফেরাল হাসপাতাল।
জানা গিয়েছে, কিডনি ইনফেকশনে ভোগা এক তরুণীকে নিয়ে তিন জায়গায় ঘুরল পরিবার। বুধবার প্রথমে এসএসকেএমে রোগীকে নিয়ে যায় বেহালা পর্ণশ্রীর দাস পরিবার। কিন্তু সেখানে কোনও বেড খালি নেই বলে ফিরিয়ে দেয় হাসপাতাল।
আরও পড়ুন- স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখেই ছুঁড়ে ফেলে দিলেন চিকিৎসক, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের বিধায়কের
এরপর রোগীকে নিয়ে নিউ আলিপুরের বি পি পোদ্দার নার্সিং হোমে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার। কিন্তু সেখানে গেলে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় যে চিকিৎসক নেই। এরপর উপায় না দেখে ফের যাদবপুরের কেপিসি হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় যে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বরাদ্দ বেড নেই। এর ফলে নিজেদের টাকা খরচ করি এমারজেন্সিতে মেয়েকে দেখায় ওই পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও কেন এমন হয়রানির শিকার হতে হল তাদের।
এর আগেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এসএসকেএম-এর বাইরে এক রোগীকে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখার অভিযোগ ওঠে হাসপাতালের। বলা হয়, হাসপাতালে বেড নেই। সিঁড়ি থেকে পড়ে ফিয়ে কোমরে গুরুতর চোট পান মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা মাজেরা বিবি। তাঁকে বহরমপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে বলা হয় যে এই চিকিৎসা করার মতো পরিকাঠামো তাদের ওখানে নেই। এই কারণে রোগীকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়।
সেখানে জরুরি বিভাগে মাজেরা বিবির বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করে জানানো হয় যে তাঁর চোট ভয়াবহ। কিন্তু এরপর পরিবারকে জানানো হয় যে হাসপাতালে বেড নেই। রোগীকে খোলা জায়গাতেই ৩ দিন ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।






