কেউ যদি বলেন, ২০২৫ সালেও প্রকাশ্যে কাউকে শাস্তি দিয়ে ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হয়, তাও আবার কান ধরিয়ে ওঠবোস করিয়ে—তবে শুনেই যেন অবিশ্বাস্য লাগে। অথচ বাস্তবে এমনই এক চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্য উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যাঁরা ভিডিওটি দেখেছেন, তাঁরা স্পষ্ট বলছেন—“এটা শুধু অমানবিক নয়, লজ্জাজনকও!”
এক যুবকের কোমর ও পায়ে দড়ি বেঁধে তাঁকে কান ধরে ওঠবোস করানো হচ্ছে—এমন দৃশ্য দেখে চোখ কপালে উঠছে সকলের। ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে। কারা এমন করল? কেনই বা একজন যুবককে এভাবে হেনস্তা করা হল? এই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়। যদিও ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও, তা মোটেই স্বাভাবিক নয়—এমনটাই বলছেন সাধারণ মানুষ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাসক-বিরোধী তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিজেপি’র তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি শুধুই এক ব্যক্তিকে অপমান করা নয়—এটা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। হাওড়া গ্রামীণ বিজেপি সভাপতি দেবাশিস সামন্ত বলেন, “এভাবে কাউকে জনসমক্ষে শাস্তি দেওয়া আইনত অপরাধ। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “পুলিশ কি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, না কি এখনও শাসকদলের কথায় চলবে?” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হাওড়া জেলা গ্রামীণ সভাপতি রাজা সেন জানান, “আমি এখনও পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানি না। লোকাল নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে তারপরই মন্তব্য করব।”
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার সুবির্মল পাল জানান, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নিজে থেকেই একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, যিনি সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে ভিডিওতে রয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : মুখ বন্ধে ৪ কোটি টাকার প্রস্তাব! মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বললেন অভয়ার বাবা-মা, “ওনাকে গঙ্গায় ফেলে দাও”!
ভিডিওতে যাঁকে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম শ্রীধর চক্রবর্তী। তিনি পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার গ্রামীণ অংশে। যেখানে একজন আইনশৃঙ্খলারক্ষী কর্মীকেও এইভাবে অপমানিত হতে হয়, সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্টে মানুষ তাঁদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এখন দেখার, তদন্তে কে বা কারা দোষী সাব্যস্ত হন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।





