মেয়েকে হারানোর শোক আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তাঁরা। কিন্তু তার থেকেও বেশি কষ্ট দিচ্ছে, ন্যায়বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা। অভয়া, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়া, যাঁর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা রাজ্য কেঁপে উঠেছিল, সেই মামলার তদন্তে পরিবার আজও আশ্বস্ত নয়। বরং উলটে এবার তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ৪ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁদের মেয়ের জীবনের মূল্য হিসাবে!
ঘটনার তদন্তে প্রথমে নামে কলকাতা পুলিশ। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ধরা পড়ে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়। তবে পুলিশের উপর আস্থা না রেখে কলকাতা হাইকোর্টে যান অভয়ার মা-বাবা, দাবি করেন সিবিআই তদন্তের। আদালত সেই আর্জি মেনে নেয়। সিবিআই চার্জশিট পেশ করে, আদালত দোষী সাব্যস্ত করে সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু এখানেই সন্তুষ্ট নন অভয়ার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, সিবিআই তদন্ত ‘টাকার বিনিময়ে’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নিহত চিকিৎসকের বাবার দাবি, “সিবিআই কোনও কাজ করছে না। টাকা নিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দিতে চাইছে। সঠিক রিপোর্ট দিচ্ছে না। আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে গরমিল আছে।” আরও বড় অভিযোগ অভয়ার মায়ের – “আমাদের মুখ বন্ধ করতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অথচ আমরা সুবিচার চাই। এর জন্যই তো সিবিআইকে ডেকেছিলাম!” সরকারের দিকেও অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তাঁরা। তাদের দাবি মমতাকে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া উচিত, এছাড়াও তারা জানান রাজ্য সরকার তাঁদের চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিল। এমনকি ৪ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও নাকি দেওয়া হয়েছিল।
বিচার না পেয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতিকেও চিঠি লিখেছেন অভয়ার মা-বাবা। কিন্তু তাতেও সুরাহা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হলেও, দেওয়া নম্বরে ফোন করে কোনো উত্তর পাননি তাঁরা। রাষ্ট্রপতির দিক থেকেও নাকি তাঁরা কোনও আশ্বাস পাননি। হতাশ অভয়ার বাবা-মায়ের আক্ষেপ, “ন্যায়বিচার পাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!”
আরও পড়ুনঃ Air India Plane Crash Victim Payal: রিকশা চালিয়ে মেয়েকে বড় করেছিলেন বাবা, লন্ডনের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই আগুনে পু*ড়ে শেষ জীবন!
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “আজ ওনারা যা আফসোস করছেন, সেটার জন্য ওনারাই দায়ী। আপনাদের মেয়েকে ভাঙিয়ে কেউ নির্ধারিত বদলি আটকাতে চাইছে, কেউ ‘কিউ আর’ কোডে টাকা তুলেছে, কেউ রাজনৈতিক ফায়দা তুলছে।” তবে অভয়ার পরিবার স্পষ্ট জানাচ্ছেন, “আমরা কোনো রাজনীতি করি না। শুধু ন্যায়বিচার চাই। সরকার যেভাবে ৪ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছে, সেটা আমাদের আত্মসম্মানের ওপর আঘাত।”





