আর জি করের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় একের পর এক তথ্য উরহে আসছে। এই ঘটনার ১৮ দিন কেটে গেলেও এখনও সেভাবে কোনও মীমাংসাই হয়নি। তা নিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এমন আবহে এবার ভাইরাল হল একটি ভিডিও যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত ৮ আগস্ট আর জি করে ঘটে এক নৃশংস ঘটনা। নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এক তরুণী চিকিৎসককে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় ভোর রাত অর্থাৎ ৪টে নাগাদ। পরদিন অর্থাৎ ৯ আগস্ট সেমিনার হলে উদ্ধার হয় তরুণীর চিকিৎসকের দেহ। সেই দেহ উদ্ধারের পরের ঘটনার ভিডিও এবার ভাইরাল।
সেই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর সেমিনার রুমে থিকথিকে ভিড়। একসঙ্গে কেন এত বাইরের লোকজন সেমিনার হলে গেলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রায় জনা তিরিশ লোক ছিল সেই সেমিনার হলে। পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও ভিড়ের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না পুলিশের। নির্দ্বিধায় লোকজন আসাযাওয়া করছিল সেমিনার রুমে, এমনটাই দেখা গিয়েছে ভিডিওতে।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর সেখানে উপস্থিত ছিলেন সন্দীপ ঘোষ, তার আপ্তসহায়কও। ছিলেন দেবাশিস সোম। ছিলেন আইনজীবী শান্তনু দে-ও। মৃতদেহ উদ্ধারের পর যখন সঙ্গে সঙ্গে অপারধস্থল সিল করে দেওয়ার কথা, সেখানে সেই জায়গায় এত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
আর জি করে দুর্নীতির মামলায় ইতিমধ্যেই নাম জড়িয়েছে দেবাশিস সোমের। আর সেই দেবাশিস সোমের সেমিনার রুমে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গতকাল, রবিবারই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিবিআই। এবার তাঁর সেমিনার রুমে উপস্থিতি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার উপর চাপ আছে, আমি আসামি নই…’, মুখ খুললেন সঞ্জয়, আসল দোষীদের নাম সামনে এল? আর কী বললেন অভিযুক্ত?
তবে সবথেকে বেশি প্রশ্ন উঠছে আইনজীবী শান্তনু দে-র উপস্থিতি নিয়ে। তিনি আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের আইনজীবী। একজন আইনজীবীর সেই মুহূর্তে সেমিনার হলে কী কাজ ছিল? কেন সেই সময় সেখানে হাজির ছিলেন তিনি? তা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন। কোনও তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার জন্য কী ডাকা হয়েছিল আইনজীবীকে? মৃতার মা-বাবাকে যেতে দেওয়া হল না সেমিনার রুমে সেই সময়, তাহলে তখন আইনজীবী কী করছিলেন সেখানে? তাহলে কী আরও অন্য রহস্য লুকিয়ে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুতে? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে কী আদৌ?





