অবাক কান্ড! গত পাঁচ বছরে মাধ্যমিকের গণ্ডি অবধি পৌঁছাতেই পারেনি এই গ্রামের কেউ, জ্বলছে না শিক্ষার আলো, কিন্তু কেন?

নদীর পাড়ে বাড়ি ওদের। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে নদীতে মাছ ধরে। তাদের পরিবারের ছোট ছেলেমেয়েরাও সাহায্য করে সেই কাজে। ‌ ফলে পড়াশোনার প্রতি তারা আগ্রহ হারিয়েছে। ‌অবস্থা এতই ভয়ানক হয়ে গেছে যে, বিগত চার পাঁচ বছর গ্রাম (Village) থেকে কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। হ্যাঁ শিক্ষার আলো পৌঁছাতে পারেনি ওদের মধ্যে। তবে এলাকার বাসিন্দারা চান এলাকায় থাকা ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করুক নিজের পায়ে দাঁড়াক। এমন এক ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মনি নদীর পাশে নিমতলা কলোনি এলাকায়।

এলাকার এক বাসিন্দার কথায়, “আমাদের গ্রামে ২৫-৩০ টা পরিবার রয়েছে সেই পরিবারকে ঘিরে একটি ক্লাব রয়েছে বিদ্যাসাগর স্মৃতি সংঘ। আমরা দেখছি বিগত কিছু বছর ধরে কোভিডের আগে থেকেই যে বাচ্চাগুলো পড়াশোনা করে তারা মাধ্যমিক পর্যন্ত যাচ্ছে না তারা প্রাথমিক উচ্চপ্রাথমিক যাওয়ার পরে আসতে আসতে পড়াশোনা ছেড়ে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। তার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে এই পরিবারগুলোর যারা অভিভাবক, মা-বাবা তারা কেউ কেউ দিনমজুর, কেউ কেউ মাছ চিংড়ি কাঁকড়া ধরে তাদের জীবন যাপন করে।”

গ্রামের অর্থনৈতিক পরিবেশ ভালো না। নদীর পাড়ে মাটির বাড়িতে বসবাস করে তারা। নিজের আধার কার্ড, ভোটার কার্ডের সমস্যা দূর করতে পারে না নিজেরা। তার মধ্যেই তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে চলেছে দিনের পর দিন। এই সমস্যার সমাধান করতেই স্থানীয়রা একসাথে একটি সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত নেন একটি পাঠ মন্দির বানানোর। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীর পাশে এই নির্মাণ হয় বিদ্যাসাগর পাঠ মন্দির। নদীর তীরে ছোট মাটির বেঁধে দেওয়া একটি ঘরে চলে পঠনপাঠন।

স্বদেশ মিস্ত্রি ওই ক্লাবের সম্পাদক তিনি জানাচ্ছেন, “সবাই আলোচনা করে এই সংগঠনের মধ্যে দিয়ে বিদ্যাসাগর পাঠ মন্দির আমরা শুরু করেছি। ক্লাবের সদস্যরা মোটামুটি শিক্ষিত ব্যাংকের কাগজ চিঠিপত্র লিখতে তারা পারে না তাই যাতে তাদের সন্তানেরা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে।”

প্রায় বিনামূল্যে এই গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন তারা। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা মা গঙ্গাকে আরাধ্য দেবী হিসেবে মানেন। তার কাছে এই মনের সব কথা জানান। ‌তাই পাঠ্য মন্দিরের পাশে স্থান হয়েছে মা গঙ্গার। ‌সেখানেই নিত্য পূজা হয় তার। ‌সরস্বতী ঠাকুরের মত এখানে তারা মানেন মা গঙ্গাকেই। ‌এই পাঠা মন্দির সকল পড়ুয়াদের জন্য খোলা রয়েছে।

ছোট থেকে একটু বড় সকলেই এখানে পড়তে আসেন। গ্রামের নাম উজ্জ্বল করতে স্থানীয়রা মিলে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন। নিজেদের শিশুকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে চান সকলেই। তাদের এই প্রয়াস সাফল্য লাভ করার দিকে এগিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। ‌

RELATED Articles