ভাইকে ফোঁটা দিতে বাপের বাড়ি যাওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা, বধূকে বিষ খাইয়ে খু’ন করল স্বামী

ভাইফোঁটায় ভাইকে ফোঁটা দিতে চেয়েছিলেন মহিলা। কিন্তু তা আর হল না। এর আগেই বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হল গৃহবধূর। বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। বধূর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বছর তিনেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগণার মন্দিরবাজারের বিদ্যাধরপুর এলাকার বাসিন্দা সুমিতা মণ্ডলের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের বাসুলডাঙার অম্বলহাঁড়ার বাসিন্দা ছোট্টু হালদারের বিয়ে হয়। মৃতার কাকিমার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য প্রায়ই সুমিতার উপর অত্যাচার করতেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাদের কোনও সন্তান হয়নি। সন্তান না হওয়ায় গত সোমবার তাদের বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর দিয়ে যায় প্রতিবেশীরা। সেই ঘটনা নিয়ে সুমিতা ও তাঁর স্বামীর মধ্যে তুমুল বচসা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।  

এরপর সুমিতা স্বামীকে জানান যে ভাইফোঁটার জন্য তিনি বাপের বাড়ি যাবেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই নিয়েও গত মঙ্গলবার দু’জনের মধ্যে প্রবল ঝামেলা বাঁধে। মৃতার পিসির কথায়, সুমিতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের বাড়িতে ফোন করে জানায় যে সুমিতা নাকি বিষ খেয়ে আ’ত্ম’হ’ত্যার চেষ্টা করেছে। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয় সুমিতাকে।

হাসপাতালে তড়িঘড়ি পৌঁছয় সুমিতার বাপেরবাড়ির লোকজন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুমিতাকে দেখেন তারা। জানা গিয়েছে, বাপের বাড়ির লোকজনকে সুমিতা জানান যে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে জোর করে বিষ খাইয়ে দিয়েছে। এরপর সেই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় সুমিতার।

এই ঘটনায় সুমিতার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দায়ম্নদ হারবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সুমিতার বাবা। মেয়েকে খু’নীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন তিনি। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

RELATED Articles